রায়পুর: লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে। গোলাগুলিও চলছে। সঙ্গে বাড়ছে উত্তাপ!আপাতত স্কোরলাইন বিবেচনা করলে বলা যেতেই পারে, ‘রোকো’-১। গুরু গম্ভীর-০। আরও স্পষ্ট করে বললে, ‘রোকো’ জুটিই এখন গুরু গম্ভীরের ত্রাতা, ভরসা, বিপত্তারিণীও। ২০২৪ সালে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়া। দিন কয়েক আগে ঘরের মাঠে ফের টেস্ট সিরিজে চুনকাম হওয়ার লজ্জা। এবার প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। লাল বলের ক্রিকেটে ঘরের মাঠে ধারাবাহিকভাবে মুখ পোড়ার পর কোচ গৌতম গম্ভীর প্রবল চাপে। যদিও তাঁর চাকরি হারানোর সম্ভাবনা আপাতত নেই। কারণ, ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের শীর্ষকর্তাদের ‘আশীর্বাদ’ রয়েছে গম্ভীরের মাথায়।
সেই আশীর্বাদ থাকলেও গুরু গম্ভীরের ‘ডানা ছাঁটা’ ভারতীয় ক্রিকেটে শুরু হয়ে গিয়েছে। আর এই ডানা ছাঁটার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হতে চলেছে বুধবার রায়পুরে। সেদিন ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচ রয়েছে। সেই ম্যাচের আগে কোচ গম্ভীর ও জাতীয় নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকারের সঙ্গে বিসিসিআইয়ের শীর্ষকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে বলে খবর। বোর্ডের তরফে সরকারিভাবে আসন্ন এই বৈঠক নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটের অন্দরের খবর, ‘রোকো’ জুটির সঙ্গে গুরু গম্ভীরের তৈরি হওয়া দূরত্ব মেটানোর পাশে কোচ হিসেবে তাঁর অতি আগ্রাসী মনোভাব বদলের বিষয় নিয়েই রায়পুরে হতে চলেছে সাম্প্রতিককালের ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। বোর্ডের এক শীর্ষকর্তার কথায়, ‘রোকোর সঙ্গে গম্ভীরের সম্পর্কের রসায়ন থেকে শুরু করে ভারতীয় কোচের অতি আগ্রাসী মনোভাব ও মন্তব্যে রাশ টানার সময় এসেছে।’
আড়াই মাস পরে টি২০ বিশ্বকাপ। ২০২৭ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে রয়েছে একদিনের বিশ্বকাপের আসর। এমন অবস্থায় বিসিসিআই মনে করছে, গম্ভীরকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সঙ্গে ‘রোকো’ জুটিকেও তাঁদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া প্রয়োজন। রাঁচিতে গতকালের একদিনের ম্যাচে রোহিত শর্মা শতরান না পেলেও দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন। বিরাট কোহলি শতরান করেছেন। তাঁর শতরানের উচ্ছাসের মধ্যে লুকিয়ে ছিল নীরব বার্তাও। সেই বার্তা যে কোচ গম্ভীরের উদ্দেশ্যে, বোঝার জন্য ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন হয় না। পরে ভারতীয় দলের সাজঘরের নানান ছবিতে দেখা গিয়েছে, কোচ গম্ভীরের দিকে ঘুরেও তাকাননি কিং কোহলি। সাজঘরে দলের সাফল্যের উৎসবের সময় ‘রোকো’-রা ছিলেন না। বিরাটের শতরানের পর সাজঘরের বারান্দায় হিটম্যানের আবেগ দেখলে একটাই কথা মনে হবে, ইয়ে দোস্তি হাম নেহি তোড়েঙ্গে। তাহলে কি ‘রোকো’ বনাম গম্ভীর, টিম ইন্ডিয়ার অন্দরে এমন মেরুকরণ হয়ে গিয়েছে?
স্পর্শকাতর এমন প্রশ্নের জবাব জানে না দুনিয়া। গম্ভীরকে শেষ পর্যন্ত থামানো যাবে কিনা, তাও স্পষ্ট নয়। কিন্তু তার আগে ‘রোকো’ বনাম গুরু গম্ভীরের অদৃশ্য যুদ্ধ কোন পথে যায়, সেটাই এখন দেখার। লড়াইটা কিন্তু চলবে বলেই মনে করছে দুনিয়া।

