গৌড়বঙ্গ ব্যুরো: বোল্লামেলায় দ্বিতীয় দিনেও উপচে পড়া ভিড় (Bolla Mela)। দর্শনার্থীদের প্রবল ভিড়ে জাতীয় সড়ক ও সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। পতিরাম থেকে বোল্লা পর্যন্ত রাস্তায় যেমন গাড়ির সারি, তেমনই গঙ্গারামপুর অভিমুখেও শয়ে-শয়ে টোটো, অটো ও বড় গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে রাস্তায় আটকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। এদিনও তীব্র যানজটে বারবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে গঙ্গারামপুর শহর। ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়কে তীব্র যানজটের ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম সমস্যার সৃষ্টি হয়।
শনিবার বুনিয়াদপুর থেকে আসা পুণ্যার্থী সঞ্জয় মণ্ডল জানালেন, শুক্রবার রাতে প্রায় চার ঘণ্টা যানজটে আটকে ছিলেন। স্থানীয়দের বক্তব্য, প্রতি বছরই মেলার সময় যানজট হয়, কিন্তু এবার পরিস্থিতি আরও গুরুতর। প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় সড়কে ভারী যানবাহন ঘুরপথে চালানোর নির্দেশ জারি হলেও তেমন সুরাহা মেলেনি। জেলা ডিএসপি (ট্রাফিক) বিল্বমঙ্গল সাহা বলেন, ‘নিজে ট্রাফিক কন্ট্রোল করছি, গোটা টিম কাজ করছে।’ তবুও যানজটে নাকাল সাধারণ মানুষ।
পতিরাম বিএসএফ ক্যাম্পাসের পাশ দিয়ে পালপাড়া-বনহাট রুটটি মেলায় যাওয়ার শর্টকাট হলেও সেখানেও একই অবস্থা। এক লেনের সরু রাস্তায় প্রচুর টোটো, অটো ও বাইক চলাচলে যানজট লেগে থাকছে। পতিরামের বাসিন্দা সুমন সরকার বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি।’ তপনের বাসিন্দা অলোক সরকারের মন্তব্য, ‘অন্তত অ্যাম্বুল্যান্স যাতে সহজে চলাচল করতে পারে, তার ব্যবস্থা করা উচিত। প্রয়োজনে তপনের রাস্তাটি ব্যবহার করার জন্য প্রচার করতে পারে প্রশাসন।’ বিকুচ ও বদলপুরের রাস্তাতেও একই চিত্র দেখা গিয়েছে।
এদিকে, বোল্লামেলায় যাতায়াতের জন্য চারটি বিশেষ বাস দিল এনবিএসটিসির বালুরঘাট ডিপো। এমনকি রায়গঞ্জ ডিপো থেকে অতিরিক্ত ১৫টি বাস চলাচল করছে বোল্লামেলার উদ্দেশ্যে। তার সঙ্গে মালদা, ইসলামপুর, শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ি ডিপো থেকেও দুটি করে বাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বালুরঘাট পুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বোল্লার উদ্দেশ্যে প্রায় ২৫০ বাস চলাচল করছে। শুক্রবার থেকে এই পরিষেবা শুরু করা হয়েছে। পুজোর ক’দিন বাসগুলি চলবে। বালুরঘাট ডিপোর তরফে যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে মধ্যরাত পর্যন্ত বাস চলেছে বলে জানানো হয়েছে।
তথ্য সহায়তাঃ বিশ্বজিৎ প্রামাণিক, পঙ্কজ মহন্ত ও রাজু হালদার

