হেমতাবাদ: উত্তর দিনাজপুরের (Uttra Dinajpur) হেমতাবাদে ছয় বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টার (Minor Rape Attempt) অভিযোগে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। বুধবার সকালে অভিযুক্ত ৭৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ গৃহশিক্ষককে হাতেনাতে ধরে ফেলে গাছের সঙ্গে বেঁধে চলে গণপ্রহার। এমনকি তাঁর চোখে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়েও নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ অভিযুক্তকে উদ্ধার করে গ্রেফতার করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম কানু দে সরকার ওরফে অখিল (৭৩)। তিনি পেশায় গৃহশিক্ষক। বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ ওই নাবালিকা তাঁর কাছে একা পড়ছিল। অভিযোগ, সেই সময় ওই বৃদ্ধ নাবালিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটির চিৎকারে তার মা ও পরিবারের সদস্যরা ঘরে ছুটে আসেন এবং অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন।


ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত গ্রামবাসীরা অভিযুক্ত শিক্ষককে টেনে-হিঁচড়ে বাড়ির বাইরের একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। সেখানে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং চোখে লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে পাশবিক কায়দায় প্রতিবাদ জানান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে হেমতাবাদ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নাবালিকার মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পকসো (POCSO) ধারায় মামলা রুজু করে কানু দে সরকারকে গ্রেফতার করে। এদিন বিকেল ৫টা নাগাদ তাঁকে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। আদালতের সরকারি আইনজীবী অতনু দাস জানান, বিচারক ধৃতকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
হেমতাবাদ থানার আইসি সুজিত লামা জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ামাত্রই পুলিশ সক্রিয় হয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে আইন হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

