হেমতাবাদ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে হামলার মুখে পড়লেন বিজেপি কর্মীরা (Hemtabad BJP Workers Attacked)। হেমতাবাদ থানার বলাইগাঁও গ্রামে টোটো আটকে বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠল শাসকদলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ধীমান সরকার (৫৫) নামে এক বিজেপি কর্মীকে তৃণমূলের নির্বাচনী কার্যালয়ে আটকে রেখে প্রায় তিন ঘণ্টা অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
মঙ্গলবার বিকেলে রায়গঞ্জ থানার বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে ১০টি টোটোয় করে প্রায় ৪০ জন বিজেপি কর্মী-সমর্থক কালিয়াগঞ্জে অমিত শাহের রোড শো-তে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, হেমতাবাদের বলাইগাঁও এলাকায় তাঁদের পথ আটকায় ৩০-৩৫ জন তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী। ধীমান সরকারের ভাই দিলীপ সরকারের অভিযোগ, “আমার দাদা প্রতিবাদ করায় তাঁকে এবং তাঁর দুই বন্ধুকে বেধড়ক মারধর করা হয়। দাদাকে একটি কার্যালয়ে ঢুকিয়ে রড ও বাঁশ দিয়ে মারা হয়েছে।” বাকি মহিলা ও কর্মীরা আতঙ্কে বাড়ির দিকে ফিরে যান।


হেমতাবাদ থানার পুলিশ জখম ধীমান সরকারকে উদ্ধার করে প্রথমে হেমতাবাদ গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করে। বুধবার দুপুরে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। শল্য চিকিৎসক সঞ্জয় শেঠ জানিয়েছেন, ধীমান বাবুর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং তাঁর দুটি চোখই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (NBMCH) রেফার করা হয়েছে। জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজ ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছেন, রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবে বিজেপি। অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি আশরাফুল হক দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই। এটি স্থানীয় কোনও বিবাদ হতে পারে।
রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডাঃ সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় বয়ান খতিয়ে দেখে দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে।
নির্বাচনের মুখে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

