উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: জনপ্রিয় কমেডি ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘হেরা ফেরি ৩’ (Hera Pheri 3)-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের অনিশ্চয়তার মেঘ। দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা যেন পিছু ছাড়ছে না রাজু-শ্যাম-বাবুরাওয়ের। এবার সিনেমার স্বত্ব ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হলেন প্রযোজক ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালা। পালটা অভিযোগ ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালার (Firoz Nadiadwala)।
ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণী প্রযোজনা সংস্থা ‘সেভেন আর্টস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ (Seven Arts International Limited) নাদিয়াদওয়ালার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করেছিল। এবার ওই সংস্থার বিরুদ্ধেই পালটা জালিয়াতির মামলা ঠুকলেন ফিরোজ। মুম্বইয়ের আম্বোলি থানায় অভিযোগ দায়ের করে তিনি জানিয়েছেন, কতিপয় ব্যক্তি যোগসাজশ করে তাঁর কেনা ছবির স্বত্ব জবরদখল করার চেষ্টা করছেন। ভয় দেখিয়ে এবং মানহানির হুমকি দিয়ে তাঁর কাছ থেকে কোটি টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে।


ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালার দাবি, ২০০০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্লকবাস্টার ‘হেরা ফেরি’ মূলত ১৯৮৯ সালের মালয়ালম ছবি ‘রামজি রাও স্পিকিং’-এর রিমেক। তিনি ২০০০ সালে সুরেশকুমার সিংঘলের কাছ থেকে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে হিন্দি ও অন্যান্য ভাষায় ছবিটির রিমেক স্বত্ব বৈধভাবে কিনেছিলেন।
অভিযোগ, ছবি মুক্তির মাত্র সাত দিন আগে একদল ব্যক্তি তাঁকে ভয় দেখিয়ে বিপুল অর্থ আদায় করেছিল। ২৫ বছর পর আবারও একই কায়দায় তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। নাদিয়াদওয়ালার অভিযোগের তির এখন মূলত গোপালা পিল্লাই বিজয়কুমার এবং এম পল মাইকেলের দিকে। তাঁর দাবি, মূল স্বত্বাধিকারী সিদ্দিক কেএল ও এম পল মাইকেল জানতেন স্বত্ব আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও ২০২২ সালে তাঁরা পুনরায় ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ওই একই স্বত্ব ‘সেভেন আর্টস ইন্টারন্যাশনাল’-এর কাছে বিক্রি করে দেন।
২০২৪ সালে ডিসেম্বর মাসে একটি আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ২০০৬ সালের সুপারহিট ছবি ‘ফির হেরা ফেরি’-কেও ‘অবৈধ’ ঘোষণা করার স্পর্ধা দেখিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষটি।
অভিযোগকারী প্রযোজক জানান, প্রতিপক্ষ তাঁর কাছে ৬০ লক্ষ টাকা এবং সিনেমার মোট লাভের ২৫ শতাংশ দাবি করেছে। শুধু তাই নয়, অভিনেতা অক্ষয় কুমার, (Akshay Kumar) সুনীল শেট্টি (Suniel Shetty) ও পরেশ রাওয়ালের (Paresh Rawal) নাম ব্যবহার করে বাজার গরম করার এবং তাঁর পেশাগত সুনাম নষ্ট করার চেষ্টাও চলছে।
ফিরোজ নাদিয়াদওয়ালার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যে ভারতীয় ন্যায়সংহিতার ৩১৮(৪), ৩৫৬ এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু করেছে। তদন্ত শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই অভিযুক্ত দুই প্রযোজককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে।
প্রিয় ত্রয়ীকে বড় পর্দায় দেখার অপেক্ষায় যখন দর্শকরা দিন গুনছেন, তখন পর্দার পিছনের এই আইনি লড়াই ‘হেরা ফেরি ৩’-এর শ্যুটিং ও মুক্তিকে কতটা পিছিয়ে দেয়, এখন সেটাই দেখার।

