নীহাররঞ্জন ঘোষ, মাদারিহাট: জলদাপাড়ায় (Jaldapara) কয়েকদিনের মধ্যে গন্ডার শিকার (Rhino Poaching) হতে পারে। গোয়েন্দাদের মাধ্যমে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বিভাগীয় বনাধিকারিক সহ অন্য অফিসারদের কাছে এই খবরটি আসে। জানা গিয়েছে, জলদাপাড়ায় ফের চোরাশিকারিদের একটি দল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই খবর পেয়ে বনকর্তারা হাই অ্যালার্ট জারি করেছেন। সতর্ক করা হয়েছে সমস্ত রেঞ্জ অফিসার এবং বনকর্মীদের।
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের (Jaldapara National Park) বিভাগীয় বনাধিকারিক পারভিন কাশোয়ান বলেন, ‘শুক্রবার সকাল আটটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত জঙ্গলের সংবেদনশীল এলাকাগুলি চিহ্নিত করা হবে। বিশেষ করে যে জায়গাগুলো গন্ডারদের বিচরণক্ষেত্র, সেইসব এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হবে।’
তিনি জানালেন, নজরদারির কাজে জলদাপাড়ার বনকর্মীদের পাশাপাশি কুনকি হাতি থাকবে। সেইসঙ্গে জলদাপাড়ার ডগ স্কোয়াড এবং গাড়িও থাকবে। কোথাও নজরদারিতে এতটুকু ফাঁক না রাখতে জেলা পুলিশের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। সঙ্গে থাকবে আর্মড পুলিশ।
শুক্রবারের এই পুরো নজরদারির তদারকি করবেন সহকারী বন্যপ্রাণ সংরক্ষক নভজিৎ দে। সর্বোচ্চ পর্যায়ের নজরদারি চালিয়ে চোরাশিকারিদের ঢোকার সমস্ত পথ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বনাঞ্চলে হাই অ্যালার্ট জারি করে চোরাশিকারিদের পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া হবে। তবে ওই হাই অ্যালার্ট কতদিন জারি থাকবে, সেই ব্যাপারে বিভাগীয় বনাধিকারিক স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে শেষবার গন্ডার শিকার হয়েছিল ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল। চিলাপাতা রেঞ্জের বানিয়া বিটের এক এবং দুই নম্বর কম্পার্টমেন্টের মাঝে একটি পূর্ণবয়স্ক মাদি গন্ডার শিকার করা হয়। এরপর বেশ কয়েকজন চোরাশিকারি এবং কারবারিদের গ্রেপ্তার ও সাজা ঘোষণা হওয়ার পর বন্ধ রয়েছে শিকার। এবার গোয়েন্দাদের মারফত চোরাশিকারের সম্ভাবনার খবর পেয়ে তা প্রতিরোধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বনকর্তারা।
সামনেই পুজো। এবার সেই পুজোর আনন্দ বনকর্মী এবং তাঁদের পরিবার কতটা করতে পারবেন, সেটা সময় বলবে। বনকর্তাদের ধারণা, পুজোর ব্যস্ততার সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে চোরাশিকারিদের দল।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, জলদাপাড়ায় ২০২২ সালের ২৫ ও ২৬ মার্চ শেষবার গন্ডার শুমারি হয়েছিল। সেইসময় গন্ডারের সংখ্যা ছিল ২৯২। বনকর্তাদের ধারণা, ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা ৩২০ পার হয়ে গিয়েছে।

