উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর কন্যা হিমায়ানি পুরী (Himayani Puri) তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অনলাইন অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছেন। দণ্ডিত যৌন অপরাধী এবং পেডোফাইল জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তাকে জড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘মানহানিকর’ তথ্য সরানোর দাবিতে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। মামলায় তিনি ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের মূল ভিত্তি
হিমায়ানি পুরীর দাবি, গত ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রচারণা শুরু হয়। সেখানে দাবি করা হয় যে, এপস্টাইন বা তার অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের সঙ্গে হিমায়ানির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ আর্থিক ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ ছিল।
মামলায় উল্লিখিত প্রধান অভিযোগগুলো হল:
• হিমায়ানি যে সংস্থায় কর্মরত ছিলেন, সেটি এপস্টাইনের থেকে আর্থিক সুবিধা পেয়েছে।
• জনৈক রবার্ট মিলার্ডের সঙ্গে যোগসাজশ করে তিনি নাকি লেম্যান ব্রাদার্সের পতনে ভূমিকা রেখেছিলেন।
হিমায়ানি এই সমস্ত অভিযোগকে “সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তথ্যহীন” বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এবং জনরোষ তৈরি করতেই এই ধরনের ‘ডিজিটাল ভাইরাল’ কন্টেন্ট ছড়ানো হচ্ছে। আগামীকাল দিল্লি হাইকোর্টে এই মানহানির মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মামলায় গুগল (Google), এক্স (X), মেটা (Meta) এবং লিঙ্কডইন (LinkedIn)-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। হিমায়ানি জানিয়েছেন, এই ধরনের মানহানিকর পোস্ট নজরে আসামাত্রই যেন তা সরিয়ে নেওয়া হয়। মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, “কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কন্যা হওয়ার কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে তার সম্মানহানির চেষ্টা চলছে।”
প্রেক্ষাপট: এপস্টাইন ফাইলস ও হরদীপ পুরী
সম্প্রতি মার্কিন সরকার কয়েক হাজার ইমেল এবং ছবি প্রকাশ করেছে, যা ‘এপস্টাইন ফাইলস’ নামে পরিচিত। ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে জেফরি এপস্টাইনের সাথে হরদীপ সিং পুরীর কিছু ইমেল আদান-প্রদান নিয়ে ভারতে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও হরদীপ সিং পুরী ইতিপূর্বেই সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, সেই সময়ে এপস্টাইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না এবং তিনি কোনোভাবেই এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন।

