সুভাষ বর্মন, শালকুমারহাট: শালকুমারহাটের রাভা বনবস্তিতে পরিবর্তন বাড়ছে। রাভা সংস্কৃতিতে বদল এর আগেই এসেছিল। এখন ঘরবাড়ি তৈরির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কয়েক দশক আগেও জঙ্গলের ভেতরে রাভাদের ঘরবাড়ি ছিল ছনের। কারও বাড়ি আবার ছিল কাঠের। সময়ের সঙ্গে ছনের জায়গা নিয়েছে টিন। টিনের চালা এবং বেড়া দিয়ে একের পর এক বাড়ি তৈরি হয়েছে। এখন অবশ্য ইট, সিমেন্ট দিয়ে তৈরি পাকা ঘরেরও দেখা মেলে রাভাবস্তিতে।
কিন্তু পাকা ঘর মানেই যে অবস্থা ভালো, তা নয়। স্থানীয় তরুণ মন্টু রাভা বললেন, ‘ঘর পাকা মানে যে সচ্ছল অবস্থা, সেটা ভাবার কোনও কারণ নেই। এখানকার তরুণ থেকে মাঝবয়সি সকলেই পরিযায়ী শ্রমিক। কোনও পরিবারের হয়তো বাবা-ছেলে দুজনেই বাইরে কাজ করেন। সেই টাকা দিয়ে গড়ে উঠেছে পাকা ঘর। আর একবার পাকা ঘর বানিয়ে ফেললে কয়েক বছরের জন্য নিশ্চিন্ত।’
জলদাপাড়া সাউথ রেঞ্জের শালকুমারহাট বিটে জঙ্গলঘেরা রাভাবস্তিতে এখন ৮৪টি পরিবারের বসবাস। ৮৪টি বাড়ির মধ্যে ১০টি বাড়ির দেওয়াল পাকা, তবে ঘরের চাল টিনের। ৫০টি মতো বাড়ির মেঝে বা ভিত পাকা। টিনের চালা এবং টিনের বেড়া রয়েছে। বাকি বাড়িগুলো পুরোটাই টিনের। গোটা বস্তিতে একটাও ছনের বাড়ি নেই, কাঠের বাড়ি আছে দুটো। আলিপুরদুয়ারের বঙ্গরত্ন তথা লোকসংস্কৃতি গবেষক প্রমোদ নাথ বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এমন পরিবর্তন। এটা মেনে নিতে হবে। তাছাড়া, আগের মতো ছন, বাঁশ, কাঠ সহজলভ্য নয়। অনেকেই কৃষিকাজ ছেড়ে বাইরে কাজ করেন। বাইরের ঘরবাড়ির পরিবেশ তাঁদের প্রভাবিত করছে।’
কিন্তু কেন এই বদল? রাভাদের যুক্তি, আগের মতো ছন এখন মেলে না। আর জঙ্গলের কড়াকড়ির জেরে কাঠও পাওয়া যায় না। ছনের ঘরে আবার প্রতিবছরই কাজ করতে হয়। তাই প্রথম দিকে টিনের ঘর তৈরি শুরু হয়। স্থানীয় নীলকমল রাভার কথায়, ‘টিনের চালা এবং বেড়া দেওয়া তৈরি ঘরে কয়েকবছর হাত দিতে হয় না। তাই কষ্ট হলেও টিনের ঘর তৈরি করা হচ্ছে।’ একই কথা আরেক বাসিন্দা রাম রাভারও।
এখানে বড় বস্তি এবং ছোট বস্তি রয়েছে। পাকা বাড়িগুলি বড় বস্তিতেই। এই বস্তিরই বাসিন্দা শিলা রাভা কাজ করেন কেরলে। ফোনে শিলা বললেন, ‘আমি এবং আমার দুই ছেলে সুরেশ এবং রাধে অনেকদিন ধরে বাইরে কাজ করছি। রোজগারের টাকা জমিয়েই ঘরবাড়ি পাকা করেছি।’

