হরিশ্চন্দ্রপুরঃ বিয়ের কয়েক বছরের মাথায় জন্ম দিয়েছেন পরপর দুটি কন্যা সন্তানের। কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার অপরাধে বধূর উপর মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন চলাতো বলে অভিযোগ শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হল নির্যাতিতার দেহ। ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। এই ঘটনায় মৃতার স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির অন্যদের বিরুদ্ধে থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে বাপের বাড়ির লোকেরা। ঘটিনার তদন্ত শুরু করেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
মৃত গৃহবধূর নাম জাসমিন(২১)। বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার মালিওর গ্রাম পঞ্চায়েতের তিওর পাড়া গ্রামে। কয়েক বছর আগে জাসমিনের বিয়ে হয়েছিল পার্শ্ববর্তী তেলজাননা গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে। বিয়ের কয়েক বছরের মাথায় পরপর দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন জাসমিন। কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ার অপরাধে জাসমিনের উপর শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। এই নিয়ে বেশ কয়েকবার দুই পক্ষ গ্রাম্য সালিশি সভা বসেছে। সালিশি সভায় সাময়িকভাবে মিটমাট হয়ে গেলেও পরবর্তীতে ফের শুরু হয়ে যেত তাঁর উপর অত্যাচার। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে নিয়মিত তার স্ত্রীকে বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ সৃষতি করত। টাকা আনতে অস্বীকার করলেই জাসমিনের কপালে জুটতো বেধড়ক মার। আজ সকালে জাসমিনের পাড়া-প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তাঁর বাপের বাড়ির লোকেরা জানতে পারেন মেয়েকে মারধর করা হয়েছে। তারা মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দেখতে পান মেয়েকে বারান্দায় একটি খাটের মধ্যে শোয়ানো হয়েছে। নিথর দেহ। গলায় ফাঁসের দাগ এবং দেহের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মৃতার বাপের বাড়ির অভিযোগ, তাঁদের মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে। তারা এই মর্মে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন স্বামী সহ শ্বশুর বাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাই তুলেছেন।
মেয়ের মা আকতারা বিবি বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমার জামাই মেয়েকে বিভিন্ন সময় মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন করতো। মেয়ে থাকতে চাইতো না। মাঝে মাঝেই জামাই বাপের বাড়ি থেকে টাকার দাবি করত। টাকা ছাড়াও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জিনিসের দাবি করেছে সেগুলো আমরা যথাসাধ্য মিটিয়েছি। কিন্তু তবুও অত্যাচার কমেনি। এবার আমার মেয়েটাকে মেরেই ফেলল। আমি ওদের বাড়ির প্রত্যেকটি লোকের শাস্তি চাই।’
এ প্রসঙ্গে মেয়ের কাকিমা নারীজা বিবি বলেন, ‘বিয়ের পর সবকিছু ভালই ছিল কিন্তু কয়েক বছরের মাথায় পরপর দুটি মেয়ের জন্ম দেয় জাসমিন। মেয়ে হওয়াতেই ওদের খুব রাগ। তারপরে শুরু হয় টাকার ডিমান্ড। আমার ভাসুর অর্থাৎ জাসমিনের বাবা জামাইয়ের এই চাহিদা পূরণ করতে পারেনি তাই আজ ওরা মেয়েকে মেরে ফেলল। আর শুধু জামাই না ওর সঙ্গে ওর বাবা-মা এই অপরাধে জড়িত। আমরা দোষীদের উপযুক্ত সাজা দাবি করছি। মা হারা নাবালিকা মেয়ে দুটোর কী হবে সেটাই আমরা ভেবে পাচ্ছি না।’
এ প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ জমা পড়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে, অভিযুক্তদের খুঁজে তল্লাশি চলছে। বধূর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

