হলদিবাড়ি: হাতে আর মাত্র দুই দিন। আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার হলদিবাড়িতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী হুজুর সাহেবের মেলা। হাতে অল্প সময় থাকায় হুজুরের মাজার চত্বরে জোরকদমে চলছে শেষমুহূর্তের প্রস্তুতি। সোমবার হুজুর সাহেবের মাজার প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা গেল ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিজেদের পসরা নিয়ে হাজির হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। মেলা প্রাঙ্গণে দোকান তৈরিতে ব্যস্ত দিন কাটছে তাঁদের। হুজুরের মাজার নতুন রং-এর প্রলেপ দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিম ফুল সহ বাহারি আলোয় সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।
একরামিয়া ইসালে সওয়াব কমিটি সূত্রে খবর, সময় কম থাকায় এবছরও হুজুর সাহেবের জীবনী সম্মিলিত স্মরণিকা ‘নূর এ পয়গাম’ এর কোনও সংস্করণ প্রকাশ করা হবে না। ঠান্ডার মধ্যে মেলার আয়োজন হওয়ায় এবছর কম সংখ্যক পুণ্যার্থীর আগমন হতে পারে বলে প্রশাসনের তরফে অনুমান করা হচ্ছে। তবে এরজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আপস করতে নারাজ পুলিশ-প্রশাসন।
হলদিবাড়ি থানার আইসি কাশ্যপ রাই বলছেন, ‘মেলার নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে মাজার চত্বরে থাকা সিসি ক্যামেরা মেরামত করা হয়েছে।’
পুলিশ সূত্রে খবর, নিরাপত্তা জোরদার করতে সিসি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হবে গোটা মেলা চত্বর। মাজার সহ মেলা প্রাঙ্গণে ৬০টি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণ সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় থাকছে পাঁচটি পুলিশ অ্যাসিস্ট্যান্ট বুথ। মেলা চলাকালীন সর্বক্ষণ উপস্থিত থাকবেন এসপি, অ্যাডিশনাল ডিএসপি ও আইসি পদমর্যাদার অফিসার। ডিএসপি পদমর্যাদার ছয়জন, অ্যাডিশনাল এসপি পদের দুইজন ও ১৬ জন ইনস্পেকটর পদমর্যাদার আধিকারিক সর্বদা উপস্থিত থাকবেন। এসআই ও এএসআই পদমর্যাদার অফিসার থাকবেন ১১০ জনের অধিক। মহিলা পুলিশ থাকছে প্রায় ১০০ জনের মতো। কনস্টেবল থাকছে ৩০০ জন। ৫০০ সিভিক ভলান্টিয়ারও থাকবেন। এছাড়াও মেলা কমিটির নিজস্ব প্রায় ৬০০ জন স্বেচ্ছাসেবকও সহযোগিতা করবেন। পকেটমার, শ্লীলতাহানি ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাদা পোশাকের পুরুষ ও মহিলা পুলিশ মাজার ও মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে ছড়িয়ে থাকবেন। শহরে থাকছে ১৪টি নো এন্ট্রি পয়েন্ট। মোতায়েন থাকবে ডগ স্কোয়াড ও ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি। এছাড়াও মেলা প্রাঙ্গণে থাকা ছয়টি ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। এবছরও মেলা চত্বরেই পার্কিং ব্যবস্থা থাকবে।
ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, হুজুরের মাজার চত্বরে সর্বদাই থাকছে দমকলের একটি ইঞ্জিন ও অ্যাম্বুল্যান্স। চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক সহ বিভিন্ন এনজিও থাকবে। পুরসভা সূত্রে খবর, ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে নলবাহিত পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ। মেলার প্রস্তুতি নিয়ে একরামিয়া ইসালে সওয়াব কমিটির যুগ্ম সম্পাদক লুৎফর রহমানের প্রতিক্রিয়া, ‘অল্প সময়ের মধ্যে মেলার আয়োজন করতে হয়েছে। তবুও কোনও খামতি রাখা হয়নি। আশা করছি অন্যবারের মতো দূরদূরান্ত থেকে প্রচুর পুণ্যার্থী মাজার প্রাঙ্গণে জমায়েত হবেন।’

