দুবাই: বৈঠক শুরু হয়েছিল। ভার্চুয়াল বৈঠকে হাজির ছিল একডজন পূর্ণসদস্য দেশ। অ্যাসোসিয়েটেড দেশের প্রতিনিধি সহ ছিলেন আইসিসির শীর্ষকর্তারা। যদিও মিনিট পনেরোর বেশি গড়ায়নি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। জট কাটার বদলে আরও জটিল ১৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানে শুরু হতে চলা আইসিসি টুর্নামেন্টের ভাগ্য।
একদিকে ভারতের দল না পাঠানোর অনড় মনোভাব, অপরদিকে হাইব্রিড মডেলে টুর্নামেন্ট আয়োজনে পাকিস্তানের রাজি না হওয়া—দুইয়ের সাঁড়াশি চাপে জারি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জট। এদিনও যার হেরফের হয়নি। ফলস্বরূপ আজ বৈঠক স্থগিত। শনিবার ফের চেষ্টা চলবে অনিশ্চয়তা দূরের।
অনলাইনে বৈঠকে অংশ নেন ভারতীয় বোর্ডসচিব তথা ১ ডিসেম্বর থেকে আইসিসির শীর্ষপদে বসতে চলা জয় শা। অপরদিকে, বৃহস্পতিবার থেকেই আইসিসির সদর দপ্তর দুবাইয়ে ঘাঁটি গেড়ে বসে আছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নকভি। সশরীরে হাজির থেকে নিজেদের অবস্থান নিয়ে চাপ তৈরির কৌশল। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে পাকিস্তান বোর্ড ও সরকারের তরফে হাইব্রিড মডেল নাকচ করে চাপ বাড়িয়ে দেয়। শুক্রবারের ভেস্তে যাওয়া বৈঠকে যে অবস্থান থেকে একচুল নড়েনি পাকিস্তান।
হাইব্রিড মডেল মানলে ভারতের গ্রুপ স্টেজের ম্যাচগুলির সঙ্গে সেমিফাইনাল, ফাইনাল (৯ মার্চ) সরবে পাকিস্তান থেকে। নকভিরা যা খারিজ করে দিয়ে আসছেন শুরু থেকে। তবে এশিয়া কাপের মতো শেষপর্যন্ত বরফ গলবে মনে করা হলেও এদিনের আপৎকালীন বৈঠক ভেস্তে যাওয়ায় অনেকেই প্রমাদ গুনছেন ১৯ ফেব্রুয়ারি শুরু টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী পূর্ণসদস্য দেশের এক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, চলতি পরিস্থিতি সবার কাছে তুলে ধরা হয়েছে। পিসিবিও তাদের অবস্থান জানিয়েছে। বিষয়গুলি নিয়ে আগামীকাল ফের বসা হবে। সবাই আশাবাদী সমাধানসূত্র মিলবে। না মিললে আগামী কয়েকদিন আলোচনা জারি থাকবে। পিসিবি, বিসিসিআই, আইসিসি মিলিতভাবে চেষ্টা চালাবে সমাধানসূত্র বার করতে।
ভারত সরকারের তরফেও এদিন ফের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে। বিদেশমন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে ক্রিকেট দল পাঠানো নিয়ে সবুজ সংকেত দেওয়া হবে না সরকারের থেকে। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার কারণে দল পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হবে না।

