উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ তিন বছরের জেল প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। তোষাখানা মামলায় তিন বছরের হাজতবাসের সাজা দিল ইসলামাবাদের একটি আদালত। সেই সঙ্গে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে ১লক্ষ টাকা। নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন ইমরানের আইনজীবী। তাঁর দলের তরফে টুইট করে জানানো হয়েছে, ইমরান খানকে তাঁর জামান পার্কের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে ইসলামাবাদ পুলিশ।
জানা গিয়েছে, শনিবার ইসলামাবাদের একটি আদালতে তোষাখানা মামলার শুনানি ছিল। আজ শুনানির সময়, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (এডিএসজে) হুমায়ুন দিলাওয়ার এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সভাপতি ইমরান খানকে। এই মামলায় বিচারকের পর্যবেক্ষন, তোষাখানা মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে৷ ইমরান খান পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনে জাল বিবরণ জমা দিয়েছেন এবং দুর্নীতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এদিন ইসলামাবাদ-ভিত্তিক জেলা ও দায়রা জজের অতিরিক্ত বিচারক হুমায়ুন দিলাওয়ার ইমরান খানকে তিন বছরের হাজত বাসের সাজা শোনান। পাশাপাশি ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের জেলে থাকার সাজা শুনিয়েছেন বিচারক।
আদালতের এই রায় ঘোষণার পর, পিটিআই এক বিবৃতিতে বলেছে, “শুধুমাত্র ইমরান খানকে যেনতেন প্রকারণে জেলে পাঠানোর একটা চক্রান্ত চলছিল দীর্ঘদিন ধরেই। এবার তা পূর্ণতা পেল। আইন নিয়ে উপহাস চলছে দেশে, যা একেবারেই লজ্জাজনক এবং ঘৃণ্য’’। আদালতের রায় ঘোষণার পরই জামান পার্কের ইমরান খানের বাড়ির বাইরে মোতায়েন করা হয়েছে বিরাট পুলিশ বাহিনী। জামান পার্ক সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কোনও প্রকার জমায়েতের অনুমতি নেই বিক্ষোভকারীদের।
তোষাখানা মামলা কী?
তোষাখানা মানে সরকারি কোষাগার। পাকিস্তানে বিদেশী নেতাদের কাছ থেকে পাওয়া যেকোনও উপহার সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। ইমরান খান সেই উপহারগুলো সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেছেন। একে তোষাখানা মামলা বলা হচ্ছে। তোষাখানা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৪ সালে। শুধু প্রধানমন্ত্রী নয়, সাংবিধানিক পদে বসা প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য। ২০১৮ সালে ইমরান খান ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি কোনো নিয়ম মানেননি। পাকিস্তান মুসলিম লীগ-এন-এর সহ-সভাপতি মরিয়ম নওয়াজ দাবি করেছেন যে এটি পাকিস্তানে প্রথম চুরি, যার উপর চুরির অকাট্য প্রমাণ সামনে আসার পরে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ইমরান খান একটি নোটিশ পান। তিনি এই নোটিশের জবাব দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি যে চারটি উপহার পেয়েছিলেন তা বিক্রি করে দিয়েছিলেন। উপহারের মধ্যে একটি গ্রাফ, একটি রোলেক্স ঘড়ি, এক জোড়া কাফলিঙ্ক, একটি দামী কলম, বেশ কয়েকটি ধাতব জিনিসপত্র এবং একটি আংটি ছিল।
ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের কয়েক মাস পর আগস্টে, ক্ষমতাসীন জোটের কিছু আইনপ্রণেতা জাতীয় পরিষদের স্পিকার রাজা পারভেজ আশরাফের কাছে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ইমরান খানকে অভিযুক্ত করা হয় যে, তার প্রাপ্ত উপহারের বিবরণ তোশাখানায় হস্তান্তর করা হয়নি। সেগুলো বিক্রি করে টাকা আয় হতো। পাকিস্তানের স্পিকার তা প্রধান নির্বাচন কমিশনার সিকান্দার সুলতান রাজার কাছে পাঠিয়েছিলেন।

