শিলিগুড়ি: এলাকায় মদ্যপ অবস্থায় হুজুতি করার প্রতিবাদ করায় তিন যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগ উঠল এক প্রতিবেশী ও তার আত্মীয়ের বিরুদ্ধে। রবিবার রাতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়ির ফুলবাড়ি (Siliguri) সংলগ্ন এলাকায়। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ধীরাজ কুমার চৌধুরী ও তার আত্মীয় আশিস ঠাকুরকে সোমবার রাতে গ্রেফতার (Arrest) করেছে পুলিশ।
অভিযোগকারী অভিজিৎ সিংহের দাবি, ধীরাজ কুমার চৌধুরী প্রায়ই রাতে মদ্যপ অবস্থায় এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করে এবং স্থানীয়দের বাড়ির সামনে গিয়ে গালিগালাজ করে। গত রবিবার রাতেও সে একইভাবে গালিগালাজ করছিল। সেই সময় অভিজিতের ভাই শুভজিৎ এবং তার দুই বন্ধু স্কুটারে করে বাড়ি ফিরছিলেন। ধীরাজকে মদ্যপ অবস্থায় অশান্তি করতে দেখে শুভজিৎ ও তার বন্ধুরা প্রতিবাদ জানালে বচসা শুরু হয়।
অভিযোগ, বচসা চলাকালীন ধীরাজের আত্মীয় আশিস ঠাকুর বাড়ি থেকে একটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে আসে। এরপরই ধীরাজ ও আশিস মিলে শুভজিৎ ও তার দুই বন্ধুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ধারালো অস্ত্রের কোপে শুভজিতের বুক মারাত্মকভাবে ক্ষতবিক্ষত হয়। তার দুই সঙ্গীর শরীরের বিভিন্ন অংশেও কোপ মারা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা জখমদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে শুভজিৎ ফুলবাড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। বাকি দুইজন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (North Bengal Medical College) ভর্তি রয়েছেন।
ঘটনার পর শুভজিতের পরিবার শিলিগুড়ি থানায় (Siliguri Police Station) লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধীরাজ কুমার চৌধুরী ও আশিস ঠাকুরকে গ্রেফতার করে। আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার ধৃতদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে।

