নীলাদ্রি বিশ্বাস,কোচবিহারঃ কিছুদিন আগে কোচবিহার রবীন্দ্র ভবনে শিশু কিশোর সংস্থা চতুর্দশ নাট্যোৎসবের আয়োজন করেছিল। প্রথম দিনের প্রথম নাটক ছিল আয়োজক সংস্থার ছোটদের থিয়েটার ইসকুলের শিক্ষার্থীদের তৈরি ‘জার্মিনেশন’। তমোজিৎ রায়ের তত্ত্বাবধানে নাটকে যান্ত্রিক সভ্যতার পরিণতিতে আগামী ভবিষ্যতের এক অশনিসংকেতের ছবি অসাধারণ দক্ষতায় ছোটরা ফুটিয়ে তুলেছে। মঞ্জুশ্রী ভাদুড়ির পরিচালনায় ছোটদের গানগুলো মনকে নাড়া দিয়ে গেছে। শিশু কিশোর সংস্থার প্রযোজনায় দ্বিতীয় নাটক ‘সোনালি স্বপ্ন’-তে অভিনয় করেছে নিরাশ্রয় নারী ও শিশু সেবাভবনের আবাসিক কিশোরীরা। আমাদের সমাজে মেয়েদের উপরে ঘটে যাওয়া নানা অমানবিক ঘটনা প্রবাহের মধ্যে অন্যতম হল বাল্যবিবাহ ও নারী পাচার। এই বিষয়টি তুলে ধরে সচেতনতার প্রসার ঘটানো হয়েছে নাট্যে। এ নাটকটির রচনা ও পরিচালনায় ছিলেন সোমনাথ ভট্টাচার্য এবং সহযোগী নির্দেশক ছিলেন সোমা দাস।
দ্বিতীয় দিনে ছোটদের থিয়েটার ইসকুলের সবচাইতে খুদেদের গীতিনাট্য ‘একতাই বল’ খুব ভালো লাগল। মঞ্জুশ্রী ভাদুড়ির লেখা ও সংগীত পরিচালনায় অসাধারণ দক্ষতায় ছোটরা মঞ্চ মাতিয়েছে। কোরিওগ্রাফিতে ছিলেন সাগরিকা গুহনিয়োগী। পরের নাটক ছোটদের থিয়েটার ইসকুলের মাঝারি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ‘অবাকপুরের ঝিলমিল’ পরিবেশ দূষণ নিয়ে আমাদের কাছে অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন সোমনাথ ভট্টাচার্য। সংগীত পরিবেশনে মঞ্জুশ্রী ভাদুড়ির সঙ্গে শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। তিনটি নাটকের আবহ তৈরি করেছেন শুভ দে। আলো পঙ্কজ মৈত্রের।
উৎসবের শেষ মঞ্চায়ন ছিল আয়োজক সংস্থা প্রযোজিত ও নিরাশ্রয় নারী ও শিশু সেবাভবনের কিশোরীদের রবীন্দ্র নৃত্যনাট্য চণ্ডালিকা। সাগরিকা গুহনিয়োগীর নৃত্য পরিচালনায় নৃত্যনাট্যটি চিত্তাকর্ষক ছিল। উৎসবের সমাপ্তি ঘটে মঞ্চে শিশু দিবস পালনের মধ্য দিয়ে। প্রায় দেড় শতাধিক শিশু কিশোর-কিশোরী মঞ্চে কেক কাটার আনন্দে মেতে ওঠে।

