কোচবিহার: আসন্ন বিধানসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে ফের ব্লক ও গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে নেতৃত্বের পরিবর্তন আনতে চাইছে তৃণমূল। বৃহস্পতিবার তৃণমূলের যুব, শ্রমিক ও মূল সংগঠনের ব্লক সভাপতিদের নিয়ে বৈঠক করে শাসকদল। সেখান থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে, যাঁরা দলে নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে কোনও কাজই করছেন না কিংবা যাঁদের কাজকর্ম দল ঠিক বলে মনে করছে না তাঁদের সরিয়ে এবার অন্যদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। এই ঘোষণার পরেই ব্লক ও অঞ্চল নেতৃত্ব থেকে কাদের সরানো হবে তা নিয়ে জেলায় তৃণমূলের অন্দরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এনিয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক বলেন, ‘দলে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া দুই-একজন নেতাকে সরানো হবে। তবে তাঁরা জেলা কমিটিতে থাকবেন।’
বৃহস্পতিবার কোচবিহারে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে ব্লক স্তরের নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠক করে জেলা নেতৃত্ব। বৈঠকে ব্লকের নেতাদের পাশাপাশি জেলা সভাপতি সহ তৃণমূল মহিলা সংগঠনের জেলা সভানেত্রী শুচিস্মিতা দেবশর্মা, শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি রাজেন্দ্রকুমার বৈদ, তৃণমূল যুব কংগ্রেসের জেলা সভাপতি স্বপন বর্মন, সহ সভাপতি সায়নদীপ গোস্বামী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দল ব্লক স্তরের নেতৃত্বের কাছ থেকে কী চায়, কীভাবে নিজেদের এলাকায় নির্বাচনের কাজ এখন থেকেই শুরু করতে হবে সেসব নিয়ে কথা বলেছেন অভিজিৎ। একইসঙ্গে পদে থেকেও যাঁরা দলের স্বার্থে সঠিকভাবে কাজ করছেন না, মিটিং–মিছিলে উপস্থিত থাকছেন না তাঁদের দল যে চিহ্নিত করছে তাও স্পষ্ট করেন তিনি। এক্ষেত্রে ব্লক সভাপতিরাই যে প্রাথমিক টার্গেট সেই ইঙ্গিতও মিলেছে।


ইতিমধ্যেই দলের শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি পরিমল বর্মন ও যুব সভাপতি কমলেশ অধিকারীকে তাঁদের পদ থেকে সরানো হয়েছে। সে নিয়ে দলের অন্দরে এখন জোর গুঞ্জন। রাজনৈতিক মহলের মতে, পরিমল রবীন্দ্রনাথ ঘোষের এবং কমলেশ পার্থপ্রতিম রায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। আর এঁদের দুজনের সঙ্গেই হিপ্পির সম্পর্ক তেমন ভালো ছিল না। পরিমলের বিভিন্ন কাজকর্ম নিয়েও একাধিকবার বিরোধ বেধেছে। সেটাই ওই দুজনকে পদ থেকে সরানোর মূল কারণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। এরপর সংগঠনে কোন কোন নিষ্ক্রিয় ব্লক সভাপতিকে সরানোর জন্য চিহ্নিত করা হচ্ছে তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে পৌঁছোবে।
অপরদিকে, শাখা সংগঠনগুলির পাশাপাশি দলের মূল সংগঠনেও কোচবিহার-২ ব্লকের সভাপতি সজল সরকারের সঙ্গে হিপ্পির সম্পর্ক আদায়-কাঁচকলায়। ব্লকের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে জেলা সভাপতির সঙ্গে একাধিকবার তাঁর বিরোধ দেখা গিয়েছে। দলীয় কাজে দেখা যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে ব্লক স্তরের যে দুই-একজন নেতাকে সরানোর ইঙ্গিত এদিন হিপ্পি দিয়েছেন, তার মধ্যে সজল রয়েছেন কি না সেটাই প্রশ্নই উঠছে জেলার রাজনীতিতে। অন্যদিকে যে সমস্ত এলাকায় আগে বিরোধীরা শক্তিশালী ছিল, সেইসব জায়গায় তৃণমূল বর্তমানে লাগাতার মিটিং, মিছিল শুরু করেছে। পাশাপাশি প্রতিটি বিধানসভা এলাকাতেও বাইক মিছিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাসক শিবির। ফলে নির্বাচনের প্রায় দশ মাস আগে থেকে যে তৃণমূল কোমর বাঁধছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

