সিতাই: সোমবার ছিল নমিনেশন জমার শেষ দিন। আর এই শেষ দিনে নমিনেশন জমা দেন সিতাই বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী সংগীতা রায়। আর এই বিধানসভা আসনে বিজেপি, বামফ্রন্ট, কংগ্রেস ছাড়াও তিনজন নির্দল প্রার্থী নমিনেশন জমা দিয়েছেন। তবে এই নির্দল প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন কোচবিহার জেলার সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার ভাই নারায়ণচন্দ্র বসুনিয়া। আর তাতেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে, তাহলে কি এবার বৌদি ও দেওরের লড়াই দেখবেন সিতাইবাসী। আর যা নিয়ে বিরোধীরাও শাসকদলকে খোঁচা দিতে ছাড়ছে না।
সিতাই বিধানসভায় জগদীশ বিধায়ক থাকলেও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে কোচবিহারের সাংসদ নির্বাচিত হন। সিতাই থেকে বিধায়ক পদের জন্য উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে সেখানে জগদীশের স্ত্রী সংগীতা প্রার্থী হন। উপনির্বাচনে জয়লাভ করেন। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূল ফের সংগীতার ওপরই ভরসা রাখে। তবে একই বিধানসভা থেকে নির্দল হিসেবে জগদীশের ভাই দাঁড়াতেই রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়ে নারায়ণকে ফোন করা হলে তিনি স্পষ্টতই বলেন, দাঁড়িয়েছি তো লড়াই করার জন্য। প্রচারের কথা বললে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘আগামীকাল স্ক্রুটিনি রয়েছে, তার ফলাফল বের হলেই নামব।’ এদিন জগদীশের সঙ্গে পারিবারিক পরিচয়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘জগদীশ আমার দাদা হন, তবে সেটা কোনও বিষয় নয়।’
দেওরের প্রার্থী হওয়া নিয়ে তৃণমূল প্রার্থীকে প্রশ্ন করা হলে তাঁকে বলতে শোনা গেল, ‘ও কেন ভোটে দাঁড়াল এবিষয়ে আমি কিছু জানি না।’ ঘরের লোক ভোটে দাঁড়ানোয় বিরোধীরা বাড়তি সুবিধা পাবে কি না, এবিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সংগীতার স্পষ্ট জবাব, ‘মানুষ মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়ন দেখে ভোট দেবেন। এগুলো কোনও ইস্যুই নয়। গণতান্ত্রিক দেশে সকলেরই নিজের অধিকার রয়েছে ভোটে দাঁড়ানোর। সিতাইবাসী এসআইআর-এর হয়রানির বিরুদ্ধে ভোট দেবেন, আর সেই সমর্থনেই তৃণমূল জিতবে।’
যদিও সিতাই বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী আশুতোষ বর্মা পরিবারতন্ত্র নিয়ে খোঁচা দেন তৃণমূলকে। তাঁর কথায়, ‘একই পরিবারের একজন সাংসদ অপরজন এতদিন বিধায়ক ছিলেন। তাই ওই একই পরিবার থেকে যদি তাঁর ভাইও ভোটে দাঁড়ায় সেবিষয়টি অস্বাভাবিক নয়। এটা ওঁদের পারিবারিক ব্যাপার, তাই এবিষয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। মানুষ আমাদের পক্ষেই রায় দেবেন।’

