উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: প্রেমদাসা স্টেডিয়ামের গ্যালারি আজ দুই ভাগে বিভক্ত (India VS Pakistan)। একদিকের গ্যালারিতে যখন তেরঙা হাতে ১৮ হাজার ভারতীয় সমর্থকের বিজয় উল্লাস, ঠিক উল্টোদিকে তখন পরাজিত পাকিস্তানিদের চোখের জলে ভাসছে কলম্বো। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৬১ রানে গোহারা হারিয়ে রাজকীয় মেজাজে সুপার এইটে জায়গা করে নিল সূর্যকুমার যাদবের ভারত। জসপ্রীত বুমরাহর নিখুঁত লাইন-লেন্থ আর অক্ষর-বরুণদের স্পিন ঘূর্ণির কাছে কার্যত আত্মসমর্পণ করল বাবর আজম ও তাঁর দল।
ভারতের ইনিংসের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। চোট সারিয়ে দলে ফেরা অভিষেক শর্মা এদিন রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন। তবে অন্য ওপেনার ইশান কিষান ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। মাত্র ৪৭ বলে ৭৭ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। যখন মনে হচ্ছিল ভারত ২০০-র দিকে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই সাইম আয়ুবের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ইশান।
ইশান ফেরার ঠিক পরেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ভারতের মিডল অর্ডার। সাইম আয়ুব তাঁর পরের দুটি বলে পর্যায়ক্রমে তিলক বর্মা (২৫) এবং হার্দিক পাণ্ডিয়াকে (০) ফিরিয়ে দিয়ে ভারতকে বড় ধাক্কা দেন। ১২৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় নীল ব্রিগেড। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ৩২ রানের ইনিংস খেলে কিছুটা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও উসমান তারিকের বলে আউট হয়ে ফেরেন তিনি। শেষের দিকে শিবম দুবে ২৭ রান করে আউট হন। ইনিংসের একেবারে শেষ দুই বলে ভারত হারায় শিবম এবং অক্ষর পটেলকে (০)। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে ১১ রানে অপরাজিত থাকেন রিঙ্কু সিং। শেষ পর্যন্ত ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ১৭৫/৭।
পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সবথেকে সফল সাইম আয়ুব। পর পর উইকেট নিয়ে তিনি ভারতের রানের গতি কমিয়ে দেন। উসমান তারিকও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সূর্যের উইকেট তুলে নিয়ে ভারতকে বড় ধাক্কা দেন।
পাকিস্তানের ইনিংসের শুরু থেকেই ভারতীয় বোলারদের দাপট ছিল লক্ষ্য করার মতো। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই ওপেনার ফারহানকে (০) ফিরিয়ে বড় ধাক্কা দেন হার্দিক পাণ্ডিয়া। দ্বিতীয় ওভারে জসপ্রীত বুমরাহের শিকার হন অপর ওপেনার সাইম আয়ুব (৬)। এরপর বুমরাহকে মারতে গিয়ে সলমন (৪) হার্দিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে পাকিস্তান। বিপজ্জনক বাবর আজমকেও (৫) থিতু হতে দেননি অক্ষর পটেল, যার ফলে ৩৪ রানেই ৪ উইকেট হারায় তারা। পাকিস্তানের হয়ে একমাত্র উসমান (৪৪) লড়াই করার চেষ্টা করলেও অক্ষরকে স্টেপ আউট করে মারতে গিয়ে তিনি স্টাম্পড আউট হন। এরপর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ; কুলদীপের বলে নওয়াজ (৪) এবং তিলক বর্মার প্রথম বলেই শাদাব (১৪) আউট হলে স্কোর দাঁড়ায় ৭৮/৭। শেষলগ্নে বরুণ চক্রবর্তী পর পর আশরফ (১০) ও আবরারকে (০) ফিরিয়ে দিলে ১১৪ রানেই শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। ফলে ৬১ রানের বড় ব্যবধানে জিতে দাপটের সঙ্গে সুপার এইটে পৌঁছে যায় ভারত।

