উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির সমীকরণ বদলে দিয়ে আমেরিকার ‘নাকের ডগায়’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (India-EU Free Trade Deal) স্বাক্ষর করল ভারত। মঙ্গলবার ইউরোপীয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তনিও কোস্টা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েনের উপস্থিতিতে এই চুক্তিতে সই করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। দীর্ঘ ১৮ বছরের টানাপোড়েন শেষে বাস্তবায়িত এই চুক্তিকে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন উরসুলা ভন।
কেন এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ? কূটনৈতিক মহলের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখলের পর ভারতের ওপর যে ‘শুল্কবাণ’ ও বাণিজ্যিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তার মোক্ষম জবাব এই চুক্তি। প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, “ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই অংশীদারিত্ব বিশ্বের মোট জিডিপি-র ২৫ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করবে।” ২০২৩-২৪ সালে দুই পক্ষের বাণিজ্য ছিল ১৩৫ বিলিয়ন ডলার, যা এই চুক্তির ফলে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কী কী সস্তা হচ্ছে? চুক্তির বিস্তারিত তথ্য এখনও সরকারিভাবে প্রকাশ করা না হলেও বিশ্বস্ত সূত্রের খবর:
বিলাসবহুল গাড়ি: যে গাড়িগুলির আমদানিমূল্য ১৫ হাজার ইউরোর বেশি (যেমন বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ), সেগুলোর ওপর শুল্ক ১১০ শতাংশ থেকে কমে ৪০ শতাংশের আশেপাশে চলে আসতে পারে।
বিদেশি ওয়াইন: বিদেশি মদ ও ওয়াইনের ওপর আমদানি শুল্ক কমার ফলে ভারতের বাজারে এগুলি সস্তা হবে।
অন্যান্য ক্ষেত্র: প্রযুক্তি, ওষুধ (Pharmaceuticals), উৎপাদন এবং শক্তিসম্পদ এই চুক্তির মূল স্তম্ভ। তবে দেশের কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য এবং সামগ্রিক কৃষিক্ষেত্রকে এই চুক্তির বাইরে রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প কি একঘরে? আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া এবং ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির ফলে ভারত বিকল্প বাজারের সন্ধানে ছিল। অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যু নিয়ে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গেও ট্রাম্পের সংঘাত চরমে। এই পরিস্থিতিতে ভারত-ইউরোপের এই ঘনিষ্ঠতা কার্যত ওয়াশিংটনকে বাণিজ্যিক চাপে ফেলে দিল। যদিও চুক্তিটি সই হয়েছে আজ, তবে এর পূর্ণ বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে ২০২৭ সাল থেকে।

