উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ কয়েক দশকের অপেক্ষা এবং বিজ্ঞানীদের নিরলস পরিশ্রমের অবসান। ৬ এপ্রিল, ২০২৬—ভারতের পরমাণু শক্তিতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হল। তামিলনাড়ুর উপকূলীয় শহর কালপক্কমে (Kalpakkam) ‘প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর’ (PFBR) প্রথমবার ‘ক্রিটিক্যালিটি’ অর্জন করল। অর্থাৎ, এই চুল্লিতে পরমাণু বিভাজন বা নিউক্লিয়ার ফিশন প্রক্রিয়া এখন নিয়ন্ত্রিত এবং স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সাফল্যকে ভারতের পারমাণবিক যাত্রার একটি “নির্ণায়ক পদক্ষেপ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পিএফবিআর (PFBR) এর সফল পরিচালনা ভারতকে তার বিশাল থোরিয়াম ভাণ্ডার ব্যবহারের লক্ষ্যমাত্রার আরও কাছাকাছি নিয়ে এল। একবার পুরোপুরি চালু হলে, রাশিয়া ছাড়া ভারতই হবে বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ যাদের হাতে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের উপযোগী ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর রয়েছে।
এই চুল্লির উৎপাদন ক্ষমতা ৫০০ মেগাওয়াট ইলেকট্রিক (MWe), যা দিয়ে প্রায় চার থেকে পাঁচ লক্ষ ভারতীয় পরিবারকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব। এর প্রযুক্তিগত বিশেষত্বগুলি হলো:
- লিকুইড সোডিয়াম কুল্যান্ট: সাধারণ চুল্লিতে জল ব্যবহার করা হলেও, এখানে ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গলিত সোডিয়াম ধাতু ব্যবহার করা হয়, যা তাপ পরিবহনে অনেক বেশি দক্ষ।
- এমওএক্স (MOX) জ্বালানি: এটি ইউরেনিয়াম এবং প্লুটোনিয়াম অক্সাইডের মিশ্রণে তৈরি বিশেষ এক ধরনের সিরামিক পেলেট।
- ব্রীডার টেকনোলজি: এই চুল্লির সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য হল, এটি যে পরিমাণ জ্বালানি পোড়ায়, তার চেয়ে বেশি জ্বালানি (প্লুটোনিয়াম) উৎপাদন করতে পারে। তাই একে ‘ব্রিডার রিঅ্যাক্টর’ বলা হয়।
কালপক্কমের এই পরমাণু কেন্দ্রটি ইন্দিরা গান্ধী সেন্টার ফর অ্যাটমিক রিসার্চ (IGCAR) দ্বারা ডিজাইন করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত এবং এই প্রকল্পে ২০০-টিরও বেশি ভারতীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প (MSME) সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে।

