উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ (Strait of Hormuz closure) ঘোষণা করায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে জ্বালানি সরবরাহের এই লাইফলাইনটি অবরুদ্ধ হওয়ায় ভারত-সহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে তেলের জোগানে (India oil reserves) টান পড়তে পারে।
ভারতের হাতে ২৫ দিনের রক্ষাকবচ
নয়াদিল্লি সূত্রে খবর, বর্তমানে ভারতের কাছে অপরিশোধিত তেল এবং পরিশোধিত জ্বালানির যে মজুত রয়েছে, তাতে বড়জোর ২৫ দিন চলতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে ভারত ইতিমধ্যেই বিকল্প দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল, এলপিজি (LPG) এবং এলএনজি (LNG) আমদানির তোড়জোড় শুরু করেছে। তবে আপাতত পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কোনো তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা নেই বলে সরকারি সূত্রে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য ও নৌ-বাণিজ্যে সংকট
সোমবার থেকে পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নেয় যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হানা আরও জোরালো করে। পাল্টাপাল্টি হিসেবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের শক্তি পরিকাঠামো এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া ট্যাঙ্কারগুলির ওপর আক্রমণ শুরু করেছে। তেহরানের কড়া হুঁশিয়ারি— এই জলপথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেই জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। বিমা সংস্থাগুলিও এই রুটে চলাচলকারী জাহাজের কভারেজ বাতিল করায় সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন কার্যত থমকে গিয়েছে।
বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম
মঙ্গলবার টানা তৃতীয় দিনের মতো বিশ্ববাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ট্রেডাররা উদ্বিগ্ন। একই সঙ্গে জাহাজ চলাচলের খরচ বা ‘শিপিং কস্ট’ বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। ভারত সরকার কড়া নজর রাখছে পরিস্থিতির ওপর। ২৫ দিনের ‘ব্রিদিং স্পেস’ থাকলেও, হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে অভ্যন্তরীণ বাজারে এর প্রভাব এড়ানো কঠিন হবে।

