উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের আবহে সীমান্তে সুরক্ষাবলয়কে আরও নিশ্ছিদ্র করতে বড়সড়ো পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত। রাশিয়ার থেকে আরও পাঁচটি অত্যাধুনিক এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স মিসাইল সিস্টেম (S-400) বা ‘সুদর্শন চক্র’ কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। গত বছর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ (Operation Sindoor) এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার অভাবনীয় সাফল্যের পরই বায়ুসেনার পক্ষ থেকে এই বিশেষ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, দ্রুতই এই ক্রয়ের চূড়ান্ত ছাড়পত্র মিলতে চলেছে। বর্তমানে ভারতের হাতে তিনটি এস-৪০০ সিস্টেম রয়েছে এবং ২০১৮ সালের চুক্তি অনুযায়ী এই বছরের মধ্যেই আরও দুটি সিস্টেম আসার কথা (India Russia Defense Deal)। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির (Middle East Crisis) নিরিখে ভারত তার আকাশসীমাকে সম্পূর্ণ অভেদ্য রাখতে আরও পাঁচটি অতিরিক্ত ইউনিট মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মূলত গত বছর মে মাসে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং ইলেকট্রনিক ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্মকে আকাশেই রুখে দিয়ে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করেছিল এই রুশ প্রযুক্তি। এমনকি পাকিস্তানের ছোড়া একাধিক ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ধ্বংস করতেও এই ‘সুদর্শন চক্র’ ছিল অব্যর্থ। সেই তুলনায় পাকিস্তানের হাতে থাকা চিনা প্রযুক্তির এইচকিউ-৯ (HQ-9) সিস্টেম কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করছেন ভারতীয় আধিকারিকরা। এই সাফল্যের জেরেই ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম— উভয় সীমান্তে এই শক্তিশালী প্রহরী মোতায়েন করতে চায় ভারতীয় বায়ুসেনা।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাল পরিস্থিতি ভারতের এই সিদ্ধান্তকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার আঁচ এসে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়াতেও। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের রণকৌশলগত অবস্থান মজবুত রাখাই দিল্লির মূল লক্ষ্য। বিদেশ থেকে এই প্রযুক্তি আমদানির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও (DRDO) ‘প্রজেক্ট কুশ’-এর আওতায় নিজস্ব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরির কাজও জোরকদমে চালাচ্ছে। রাশিয়ার এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্তি এবং দেশীয় প্রযুক্তির উন্নয়ন ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।

