উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) দু’টি ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজকে (Indian-flagged vessels) লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে ইরান (Iran)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শনিবার ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ডঃ মহম্মদ ফাতালিকে তলব করল ভারতের বিদেশমন্ত্রক। নয়াদিল্লির তরফে এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও চরম অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। ঠিক কোন কারণে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানি বাহিনী হামলা চালাল, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে ভারত।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার লারক দ্বীপের কাছে ইরানি রেভোলিউশনারি গার্ডের (IRGC) বাধার মুখে পড়ে ভারতীয় জাহাজটি। প্রাণহানি বা বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর না মিললেও উত্তেজনার জেরে জাহাজটিকে মাঝপথেই গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হয়। এদিন সকাল থেকে ওই পথ দিয়ে মোট আটটি ভারতীয় বা ভারতমুখী জাহাজ যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ‘দেশ গরিমা’ নামক একটি জাহাজ কোনওক্রমে বেরিয়ে যেতে পারলেও বাকি সাতটি জাহাজকেই ফিরে আসতে হয়েছে। ডাইরেক্টরেট জেনারেল অফ শিপিং বর্তমানে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।


বর্তমানে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের বাড়তে থাকা বিরোধের জেরে পারস্য উপসাগর সংলগ্ন এই এলাকায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে তেহরান। বিশ্বের মোট খনিজ তেলের চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে সাউথ ব্লক স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভারতীয় নাবিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থের নিরাপত্তা বজায় রাখাই সরকারের এখন মূল অগ্রাধিকার। ভারতের এই কড়া পদক্ষেপ বুঝিয়ে দিল যে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধ যাতায়াতের অধিকার লঙ্ঘিত হলে নয়াদিল্লি চুপ করে থাকবে না। আগামী কয়েক দিনে এই ইস্যুতে ইরানের জবাবের ওপরই নির্ভর করছে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পরবর্তী গতিপথ।

