উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: তিলোত্তমার ইডেন গার্ডেন্সে রবিবার নামছে ক্রিকেটের দুই পরাশক্তি। একদিকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ‘জায়ান্ট’ ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অন্যদিকে সেমিফাইনালের টিকিটের অপেক্ষায় মরিয়া ভারত। একদিকে গেইল-পরবর্তী যুগের বিধ্বংসী ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং লাইনআপ, অন্যদিকে ভারতের ভারসাম্যপূর্ণ রণকৌশল। ম্যাচের আগের দিন ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন দুশখাতের গলায় শোনা গেল স্পষ্ট হুঙ্কার— “আগুনের জবাব দিতে হবে আগুন দিয়েই।”
‘অল-আউট অ্যাটাক’: রণকৌশলে বদল ভারতের
পুরানো রক্ষণাত্মক ক্রিকেট নয়, বরং শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে থাকার পরিকল্পনা ভারতের। দুশখাতে সাফ জানিয়েছেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো পাওয়ার-হিটারদের আটকাতে গেলে উইকেট নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তাঁর মতে, “টি-টোয়েন্টিতে রান আটকে জেতার দিন শেষ। আমাদের বোলারদের কাজ হবে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট তুলে নিয়ে ওদের চাপে রাখা, ঠিক যেমনটা দক্ষিণ আফ্রিকা করে দেখিয়েছে।”
ব্যাটিং গভীরতা বনাম পাওয়ার হিটিং
জেসন হোল্ডার বা রোমারিয়ো শেফার্ডের মতো অলরাউন্ডাররা নয় নম্বরে নামছেন— যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং গভীরতার প্রমাণ। তবে পিছিয়ে নেই ভারতও। দুশখাতে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভারতের হাতেও অক্ষর পটেলের মতো ফিনিশার রয়েছে।
জিম্বাবুয়ে ম্যাচে তিলক বর্মার পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে সবার। তবে কালকের ম্যাচে তাঁর পজিশন নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রাখলেন সহকারী কোচ। তাঁর বক্তব্য:”তিলক পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেকে দারুণ মানিয়ে নেয়। ও ১০ ওভারের আশেপাশে নামলে সেরাটা দেয়। বিপক্ষের বোলারদের দেখেই কালকের ব্যাটিং অর্ডার চূড়ান্ত হবে।”
ইডেনের চাপ ও আবেগ
ঘরের মাঠে এমন মরণ-বাঁচন ম্যাচে চাপ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে দুশখাতে মনে করেন, চাপ এড়িয়ে নয়, বরং বুক চিতিয়ে লড়াই করাই ভারতীয় দলের সংস্কৃতি। ইডেন গার্ডেন্সের মতো ঐতিহাসিক মাঠে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করা সম্মানের বিষয়। তাই তিনি চান ক্রিকেটাররা চাপ ‘উপভোগ’ করুক।

