উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অতি সক্রিয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় (Indonesia Earthquake) ফের একবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানল। মঙ্গলবার সকালে দেশটির সুমাত্রা দ্বীপে (Sumatra Island) রিখটার স্কেলে ৬.১ মাত্রার এক বিধ্বংসী কম্পন অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বা ইউএসজিএস (USGS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল সুমাত্রা দ্বীপের নিকটবর্তী সমুদ্রগর্ভে। হঠাৎ এই প্রবল কম্পনে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ইন্দোনেশিয়া ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি অঞ্চলে অবস্থিত। একাধিক টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান হওয়ায় সুমাত্রা এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে নিয়মিতভাবে সিসমিক অ্যাক্টিভিটি বা ভূকম্পন লক্ষ্য করা যায়। মূলত ‘রিং অফ ফায়ার’ জোনে অবস্থানের কারণেই এই দেশটিতে ঘনঘন ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। সমুদ্রের তলদেশে হওয়া এই কম্পনের ফলে প্রাথমিকভাবে সুনামির আশঙ্কা করা হলেও, ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (BMKG) জানিয়েছে যে এখনই কোনো সুনামির সতর্কতা নেই। তবে উপকূলে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পের ইতিহাস অত্যন্ত ভয়াবহ। এর আগে গত বছরের নভেম্বর মাসেও আচেহ প্রদেশের কাছে ৬.৩ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেই সময় মাটির মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে কম্পন অনুভূত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যদিও সেবারও বড় কোনো বিপর্যয় ঘটেনি। মঙ্গলবারের এই ৬.১ মাত্রার কম্পন ফের একবার দ্বীপরাষ্ট্রটির পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। বর্তমানে উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি চালানো হচ্ছে। আফটার শক বা পরবর্তী মৃদু কম্পনের আশঙ্কায় সতর্কবার্তা জারি করেছে প্রশাসন।

