উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ইরানে চলমান সরকার বিরোধী বিক্ষোভে ভয়াবহ প্রাণহানির (Iran protest death toll) এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, দেশজুড়ে চলা এই বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন (2000 killed in Iran)। সরকারি সূত্রে এই বিপুল সংখ্যক মৃত্যুর স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে উন্মোচিত করেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। রাজনৈতিক স্বাধীনতা, সামাজিক বিধিনিষেধ এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থার মতো একাধিক ইস্যুতে জনমনে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এই আন্দোলন। কিন্তু সরকার এই বিক্ষোভ দমনে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে গুলি চালানো এবং আন্দোলনকারীদের ওপর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ বারবার উঠেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে।
এতদিন পর্যন্ত বেসরকারি সংস্থা এবং মানবাধিকার কর্মীরা মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন অনুমানভিত্তিক তথ্য দিলেও, তেহরানের প্রশাসন তা অস্বীকার করে আসছিল। এই প্রথম কোনো সরকারি সূত্র থেকে এত বড় অঙ্কের প্রাণহানির কথা স্বীকার করা হলো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিকের দেওয়া এই তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে, বিক্ষোভ দমনে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী কতটা আগ্রাসী ভূমিকা পালন করেছে। এটি সাম্প্রতিক ইতিহাসে ইরানের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী অভ্যন্তরীণ সংঘাতগুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে।
এই বিপুল প্রাণহানির ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ইরানের সরকারের কাছে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের এবং নাগরিকদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোও তেহরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মৃতের এই সরকারি পরিসংখ্যান আসলে হিমশৈলের চূড়ামাত্র হতে পারে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সরকারের কঠোর দমনপীড়ন সত্ত্বেও ইরানের রাজপথ এখনও উত্তপ্ত। সাধারণ মানুষের এই অভূতপূর্ব প্রতিরোধ এবং সরকারের অনড় মনোভাব—দুইয়ের সংঘাতে ইরানের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

