উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার নীল জলরাশি এখন আক্ষরিক অর্থেই রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার অপেক্ষায়। মার্কিন নৌবাহিনীর দাপট রুখতে সরাসরি সংঘাতের হুঁশিয়ারি দিল আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের ইরান। রবিবার থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে শুরু হয়েছে ইরানের নৌসেনার ‘লাইভ ফায়ার ড্রিল’ বা সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া।
নিমিৎজ বনাম খামেনেই: শক্তি প্রদর্শনের লড়াই
ডিসেম্বরের শেষে দক্ষিণ চিন সাগর থেকে যে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছিল, তা এখন ইরান উপকূলে থিতু হয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর গর্ব, নিমিৎজ-শ্রেণির বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন তিনটি ঘাতক ডেস্ট্রয়ার নিয়ে গত সপ্তাহেই অবস্থান নিয়েছে ইরান সংলগ্ন সমুদ্রে। এই মার্কিন ‘পেশি প্রদর্শন’-এর জবাব দিতেই তেহরান বেছে নিয়েছে তাদের প্রধান অস্ত্র— হরমুজ প্রণালী।
কেন এই মহড়া তাৎপর্যপূর্ণ?
• জ্বালানি যুদ্ধের অস্ত্র: হরমুজ এমন এক সরু জলপথ যার নিয়ন্ত্রণ হারালে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে ধস নামতে পারে। ইরান সেই কৌশলগত অবস্থানকেই হাতিয়ার করছে।
• লাইভ ফায়ার ড্রিল: দুই দিনব্যাপী এই মহড়ায় সরাসরি গোলাবর্ষণ করে ওয়াশিংটনকে পালটা চাপের মুখে রাখতে চাইছে তেহরান।
অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও আন্তর্জাতিক চাপ
সামরিক সংঘাতের আড়ালে রয়েছে ইরানের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষয়ী ইতিহাস। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হিজাব-বিরোধী ও সরকার-বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল দেশ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি:
• নিহতের সংখ্যা: প্রায় ১৫ হাজার বিক্ষোভকারীকে খামেনেই বাহিনী হত্যা করেছে বলে অভিযোগ।
• মার্কিন অবস্থান: এই দমনপীড়নের প্রতিবাদে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছিল, যার পালটা হিসেবেই এই নৌ-মহড়াকে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি পশ্চিম এশিয়ায় একটি নতুন যুদ্ধের সূচনা করতে পারে। ইরান যদি হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে তার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।

