উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে কি ফের ঘনিয়ে আসছে যুদ্ধের মেঘ? ইরানের সাম্প্রতিক বয়ানে সেই আশঙ্কাই জোরালো হচ্ছে। তেহরানের দাবি, আমেরিকা কোনও চুক্তি বা সন্ধিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী (Iran-US War)।
ইরানের সামরিক সদর দপ্তরের উপপ্রধান মহম্মদ জাফর আসাদি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমেরিকার কার্যকলাপ প্রমাণ করে যে তারা কোনও কূটনৈতিক বোঝাপড়া বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়।’ তাঁর মতে, মার্কিন আধিকারিকদের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলি কেবল সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। এর পেছনে দুটি মূল উদ্দেশ্য রয়েছে— প্রথমত, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমানো এবং দ্বিতীয়ত, নিজেদের তৈরি করা সংকট থেকে নিজেদের রক্ষা করা। আসাদি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মার্কিন ‘বোকামি’র যোগ্য জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে হাই-অ্যালার্টে রয়েছে।


অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ইরানের পক্ষ থেকে আসা আলোচনার সর্বশেষ প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফ্লোরিডায় যাওয়ার পথে হোয়াইট হাউসের বাইরে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান এমন কিছু সুযোগ-সুবিধা চাইছে যা আমার পক্ষে মেনে নেওয়া অসম্ভব। তারা চুক্তি করতে চায় ঠিকই, কিন্তু আমি তাতে সন্তুষ্ট নই।’ ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, ইরানের নেতৃত্ব বর্তমানে দ্বিধাবিভক্ত।
একটি জনসভায় ট্রাম্প ইরানকে সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধে জড়িয়েছি কারণ কিছু উন্মাদকে (Lunatics) আমরা পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দিতে পারি না।’ যদিও যুদ্ধবিরতি চলায় সংঘাত আপাতত স্থগিত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন, কিন্তু তাঁর বয়ানে আগ্রাসনের সুর স্পষ্ট।
সব মিলিয়ে, কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে বরফ গলার পরিবর্তে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বাগযুদ্ধ এখন বারুদের স্তূপে রূপ নিয়েছে। যে কোনও মুহূর্তের ছোট ভুল পদক্ষেপ বড়সড়ো সামরিক সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

