উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা প্রশমনে নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের তিন মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পর, পরিস্থিতির সামাল দিতে পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকার কাছে ১৪ দফা সংবলিত এক নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে আমেরিকার (USA) কড়া অবস্থানে এই প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
ইরানের দেওয়া এই ১৪ দফা প্রস্তাবের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ এবং লেবাননে হামলা স্থগিতের দাবি। তেহরানের প্রধান দাবিগুলো হলো, হরমুজ প্রণালী থেকে মার্কিন নৌসেনার ‘অবরোধ’ সরিয়ে নিতে হবে এবং সেখানে নতুন শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। ইরানের ওপর আরোপিত সব ধরণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ফেরত এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।


বিতর্কিত পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে পরবর্তীতে আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে ইরান (Iran), তবে শর্ত হিসেবে তারা নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত মেনে নেবে না বলে সাফ জানিয়েছে। ইতিপূর্বে ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা ২১ ঘণ্টার এক ম্যারাথন বৈঠকে বসলেও কোনও সমাধান মেলেনি। পাকিস্তান দ্বিতীয় দফায় দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন আধিপত্য এবং ইরানের পালটা হামলার হুমকিতে সেই প্রক্রিয়া থমকে আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই প্রস্তাবকে শুরুতেই নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রস্তাবের নির্যাস বা ‘আইডিয়া’ তিনি পেলেও লিখিত কপি এখনও হাতে পাননি। তবে তার সাফ কথা, ইরানের দেওয়া ঢালাও শর্তগুলো মেনে নেওয়া প্রায় অসম্ভব।
অন্যদিকে, ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বল এখন আমেরিকার কোর্টে। তারা চাইলে কূটনীতির পথে হাঁটতে পারে, নতুবা যুদ্ধের পথ বেছে নিতে পারে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই নব্য প্রস্তাবে আগের দাবিগুলোরই পুনরাবৃত্তি বেশি। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই স্নায়ুযুদ্ধ সহসা শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

