উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত করে শেষ পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait Of Hormuz) বন্ধ করে দিল ইরান (Iran)। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডের (IRGC) পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই জলপথ দিয়ে কোনও জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তার ওপর সরাসরি হামলা চালানো হবে।
গার্ডের কমান্ডার-ইন-চিফের প্রবীণ উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাবারি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, হরমুজ প্রণালী এখন পুরোপুরি বন্ধ এবং কোনও জাহাজ এই নির্দেশ অমান্য করে পার হওয়ার চেষ্টা করলে ইরানের নৌসেনা সেই জাহাজে অগ্নিসংযোগ করতে দ্বিধা করবে না। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান সরকারের পতনের লক্ষ্যে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার প্রতিবাদেই তেহরান এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ বা এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সৌদি আরব, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো বড় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর রপ্তানির প্রধান পথ হল এই হরমুজ প্রণালী। এই জলপথ বন্ধ হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলি হামলার জবাবে ইরান ইতিমধ্যে কাতার, কুয়েত, বাহরিন ও সৌদি আরবের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোতে মিসাইল হামলা চালিয়েছে, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ইরান হুমকি দিয়ে আসছিল যে তাদের ওপর কোনও আক্রমণ হলে তারা এই জলপথ অবরুদ্ধ করে দেবে। বর্তমানে সেই হুমকি বাস্তবে রূপ নেওয়ায় পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। লোহিত সাগরে ইতিপূর্বেই হুথি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে বিশ্ব নৌ-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তার ওপর হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের এই সংঘাত এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।

