উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: সব সময় কি মেজাজ সপ্তমে চড়ে থাকছে? ছোটখাটো বিষয়েই প্রিয়জন বা সহকর্মীদের ওপর চিৎকার করে ফেলছেন? আপাতদৃষ্টিতে একে মানসিক চাপ বা স্রেফ স্বভাবের দোষ মনে হলেও, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটি হতে পারে ‘সিভিয়ার ইরিটেবিলিটি’। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, শুধু মানসিক বিপর্যয় নয়, শরীরের ভেতরে প্রয়োজনীয় কিছু ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি আপনার আচরণের এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে (Mood Swings)।
মস্তিষ্কের ‘নিউরোট্রান্সমিটার’ বা রাসায়নিক ভারসাম্য বজায় রাখতে নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টি উপাদান অপরিহার্য। এর মধ্যে অন্যতম হলো ম্যাগনেশিয়াম, যাকে বলা হয় ‘প্রাকৃতিক ট্র্যাঙ্কুলাইজার’। এর অভাবে উদ্বেগ ও অনিদ্রা বাড়ে। আবার ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স (বিশেষ করে বি১২ ও বি৬) শরীরে ‘সেরোটোনিন’ বা সুখী হরমোন তৈরি করে। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে মন মেজাজ খিটখিটে হওয়া স্বাভাবিক। একইভাবে, ‘সানশাইন ভিটামিন’ বা ভিটামিন ডি-এর অভাবে বিষণ্ণতা ও দ্রুত মেজাজ পরিবর্তনের সমস্যা দেখা দেয়।
এছাড়া মস্তিষ্কের সঙ্কেত আদান-প্রদানের জন্য জিঙ্ক, কোষের সুরক্ষায় ওমেগা-৩ এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য আয়রন অত্যন্ত জরুরি। রক্তাল্পতা বা আয়রনের অভাব হলে ক্লান্তি ও বিরক্তি দানা বাঁধে।
আন্দাজে সাপ্লিমেন্ট না খেয়ে প্রথমেই চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। ডায়েটে রাখুন পালংশাক, ডিম, সামুদ্রিক মাছ, কুমড়োর বীজ, বাদাম ও রঙিন সবজি। প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলা ভালো, কারণ রক্তে শর্করার হ্রাস-বৃদ্ধি মেজাজের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি দিনে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম, পর্যাপ্ত জলপান এবং ১৫-২০ মিনিট গায়ে রোদ লাগানো মেজাজ নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
মনে রাখবেন, শরীর সুস্থ থাকলে মনের নিয়ন্ত্রণও সহজ হয়। তাই অবহেলা না করে সঠিক পুষ্টির দিকে নজর দিন।

