উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ। রাতারাতি বদলে গেল সংখ্যাটা। ছিল ২,২০৮, হল ৪৮০। নির্বাচন কমিশনের তরফে রিপোর্ট চাওয়ার পরেই সংখ্যাবদল করে নতুন রিপোর্ট দিয়েছে জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনি আধিকারিক। নতুন রিপোর্টে জেলাশাসক জানিয়েছেন, ৪৮০টি বুথে কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়নি, কেউ স্থানান্তরিত হননি।
এসআইআর চলছে গোটা রাজ্যজুড়ে। এরমধ্যেই জেলা নির্বাচনি আধিকারিকের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছিল, রাজ্যের ২,২০৮টি বুথে কোনও গত এক বছরে কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়নি, কেউ স্থানান্তরিত বা নিখোঁজ হননি, কোনও ভোটারের একাধিক জায়গায় নাম নেই। অর্থাৎ বিলি করা এনুমারেশন ফর্মের ১০০ শতাংশই পূরণ হয়ে জমা পড়েছে। বিষয়টি সামনে আসতেই প্রশ্ন ওঠে, তবে কি রাজ্যের ওই ২,২০৮টি বুথে গত এক বছরে কেউ মারাই যাননি? ওই তালিকায় সবচেয়ে বেশি বুথ ছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। সেখানকার ৭৬০টি বুথে যত এনুমারেশন ফর্ম বিলি করেছিলেন বিএলও-রা, একশো শতাংশই পূরণ হয়ে ফেরত এসেছে। অর্থাৎ ওই বুথগুলিতে ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে, এমন কোনও ব্যক্তি গত এক বছরে মারা যাননি।
সোমবারই সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনি আধিকারিকের কাছে রিপোর্ট তলব করে নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার ওই সংক্রান্ত রিপোর্ট এসেছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, ১০০ শতাংশ বিলি হওয়া এনুমারেশন ফর্ম পূরণ হয়ে ফিরে আসা বুথের সংখ্যা ২,২০৮ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮০-তে। সব চেয়ে বেশি এ রকম বুথ রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। ওই জেলার রায়দিঘিতে ৬৬টি, কুলপিতে ৫৮টি, মগরাহাটে ১৫টি এবং পাথরপ্রতিমায় ২০টি বুথে সব ফর্ম পূরণ করার পরে ফেরত এসেছে। অর্থাৎ সেখানে গত এক বছরে কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়নি। কেউ স্থানান্তরিতও হননি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে এমন বহু বুথ আছে, যেখানে হাতে গোনা অতি সামান্য কিছু ফর্ম ফিরে এসেছে। একটি মাত্র ফর্ম ফেরত আসেনি, রাজ্যে এমন বুথের সংখ্যা ৫৪২। দু’টি ফর্ম জমা পড়েনি এমন বুথ রয়েছে ৪২০টি। সেই হিসাবও প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

