উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই ভারতের শক্তি নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে তৎপর নয়াদিল্লি। গত কয়েকদিনে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে তিনবার ফোনে কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আমেরিকা-ইজরায়েল বনাম ইরানের এই সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) যে সামরিক চাপ তৈরি হয়েছে, তার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিকতম কথোপকথনটি মূলত সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা ঘিরেই হয়েছে।
মুম্বই বন্দরে স্বস্তির খবর
বিদেশ মন্ত্রকের এই বার্তার কিছুক্ষণ আগেই একটি বড় স্বস্তির খবর আসে। সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) বহনকারী লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী একটি ট্যাংকার সফলভাবে মুম্বই বন্দরে এসে পৌঁছায়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই প্রথম কোনো জাহাজ, যা অশান্ত হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে নিরাপদে ভারতে পৌঁছতে সক্ষম হল।
ইরানে থাকা ভারতীয়দের কী পরিস্থিতি?
বিদেশ মন্ত্রক নিশ্চিত করেছে যে, ইরানে আটকে থাকা বহু ভারতীয় ইতিমধ্যেই নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশের রাজধানী তেহরান থেকে আরও কয়েক ডজন ভারতীয়কে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
• মোট নাগরিক: ইরানে বর্তমানে প্রায় ৯,০০০ ভারতীয় রয়েছেন, যাঁদের মধ্যে পড়ুয়া, নাবিক, ব্যবসায়ী এবং তীর্থযাত্রী অন্তর্ভুক্ত।
• সরকারের পদক্ষেপ: বিদেশ মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনে বহু পড়ুয়া ইতিমধ্যেই দেশে ফিরেছেন।
• বিকল্প পথ: যাঁরা আটকে আছেন, তাঁদের আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার স্থলসীমান্ত দিয়ে বের করে আনার চেষ্টা চলছে, যেখান থেকে তাঁরা বাণিজ্যিক বিমানে ভারতে ফিরতে পারবেন।
সংঘাতে ভারতীয়দের মৃত্যু
এখনও পর্যন্ত এই ভয়াবহ সংঘাতে দুই ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছে। গত সপ্তাহে ওমানের উত্তর উপকূলে পালাউ-পতাকাবাহী তেলের ট্যাংকার ‘স্কাইলাইট’ (Skylight)-এর ওপর হামলার জেরে প্রাণ হারান বিহারের ক্যাপ্টেন আশিস কুমার এবং রাজস্থানের দলিপ সিং। এছাড়া, মুম্বইয়ের বাসিন্দা দীক্ষিত সোলাঙ্কি নামে আরও এক ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
জ্বালানি সংকট নিয়ে কতটা প্রস্তুত ভারত?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও আমেরিকার-ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে শুধুমাত্র ইরানেই ১,৩০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। এই প্রণালীর ওপর ইরানের ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ থাকায় এবং সেখানে সামরিক অবরোধ চলায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Brent crude) দাম হু হু করে বাড়ছে।
তবে ভারত সরকার দেশের সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছে। সরকারি সূত্রের দাবি, এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য দেশে পর্যাপ্ত পেট্রোলিয়াম এবং গ্যাসের মজুত রয়েছে।
কূটনীতিই একমাত্র পথ: সোমবার সংসদে জয়শঙ্কর স্পষ্ট জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত মেটাতে আলোচনা এবং কূটনীতিই একমাত্র পথ। তিনি আরও বলেন, ভারত সরকার এই পরিস্থিতির ওপর “কড়া নজর” রাখছে, কারণ মধ্যপ্রাচ্য ভারতের শক্তি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যের (বার্ষিক আনুমানিক ২০০ মিলিয়ন ডলার) অন্যতম বড় অংশীদার।

