জলপাইগুড়ি: ধূপগুড়ি (Dhupguri) এলাকার এক নাবালিকা টিউশন পড়তে গিয়ে এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। পেশায় সেই তরুণ রাজমিিস্ত্র। একদিন সেই নাবালিকা পালিয়ে যায় ওই তরুণের সঙ্গে। তার বাড়ি কোচবিহারে (Cooch Behar)। সেখানে গিয়ে ওই নাবালিকা জানতে পারে, যার হাত ধরে সে পালিয়ে এসেছে, সেই তরুণ আসলে বিবাহিত। সন্তান ও আছে। এরপর অবশ্য ওই নাবালিকা বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
কয়েকদিনের পরিচয়, তারপর প্রেম। আর সেই প্রেমের টানেই ঘর ছাড়ছে নাবালিকারা। গোটা জেলায় এমন ঘটনার সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় গড়ে প্রতি মাসে এই ধরনের কেসের সংখ্যা প্রায় ২০৷ সবচেয়ে উদ্বেগজনক, তার প্রায় অর্ধেকই জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) শহর ও সংলগ্ন এলাকার ঘটনা।


চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ দিনে ১১ জন নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছিল জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায়। কোতোয়ালি পুলিশের হিসাব বলছে, মার্চ মাসে আটজন এভাবে পালিয়েছিল। এমাসে এখনও পর্যন্ত সংখ্যাটা ৮। জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার খান্ডবাহালে উমেশ গণপত বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়ে ওই নাবালিকাদের রাজ্যের অন্য জেলা, এমনকি িভনরাজ্য থেকেও উদ্ধার করেছি। জেলা পুলিশের তরফে জেলাজুড়ে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচিও করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করার বার্তা দেওয়া হচ্ছে স্কুলগুলিতে।’
কয়েক মাস আগে শহরের পুর এলাকার এক নাবালিকা বাড়িতে স্কুলের প্রোজেক্টের কাজ রয়েছে বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। সন্ধ্যার পরেও মেয়ে বাড়িতে না আসায় বান্ধবী ও আত্মীয়দের বাড়িতে খোঁজখবর করে কোনও সন্ধান না পেয়ে থানার দ্বারস্থ হয় পরিবার। তদন্তে জানা গিয়েছিল, মোবাইল ফোন বন্ধ রাখার পাশাপাশি নিজের সমস্ত নথিপত্র নিয়ে যায় সে। পরবর্তীতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশের তদন্তকারী অফিসার থেকে সমাজকল্যাণ দপ্তরের কর্তারা সকলেই একটা ভয়াবহ তথ্যে সহমত, কোনও মাসে যদি ছয়জন নাবালিকা নিখোঁজের অভিযোগ জমা পড়ে, তাহলে দেখা যায়, তার মধ্যে চারজনই প্রেমের টানে ঘর ছেড়েছে। বেশিরভাগ নাবালিকার বয়স ১৫ থেকে ১৭। আর যাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক হচ্ছে তারা কেউ ভিনরাজ্যে বা ভিনজেলায় কাজ করে। কয়েকদিনের পরিচয়ে ঘর ছাড়লেও প্রেমিকের সম্পর্কে বিশেষ কিছুই জানে না ঘরছাড়া নাবালিকারা।
সিডিব্লউসি-র চেয়ারম্যান মান্না মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের এই ধরনের কেস নিয়েই কাজ করতে হয়। তাতে দেখা যায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কারণ হিসেবে থাকে সোশ্যাল মিডিয়া। বিভিন্নভাবে কোনও তরুণের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে মেয়েটির, আর তাতেই সে ঘর ছেড়ে ওই তরুণের সঙ্গে চলে যাচ্ছে। পরবর্তীতে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ উদ্ধার করছে বিভিন্ন জায়গা থেকে। অভিভাবকদের উচিত তাঁর বাড়ির সন্তান মোবাইল ফোন কীভাবে ব্যবহার করছে তাতে নজর রাখা। তাদের বোঝানো এধরনের পদক্ষেপে কী পরিণতি হতে পারে।’

