পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়িতে (Jalpaiguri) আজকাল সকাল–সন্ধ্যা শীতের আমেজ। তাই শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে বিদেশ থেকে জলপাইগুড়ির ‘টেমস’ অর্থাৎ করলা নদীর আশপাশে পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা শুরু হয়ে গিয়েছে। করলার শান্ত জলে সেইসব পাখিদের গা ভাসিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। জেলা শাসকের অফিসের সামনে করলা নদীর এলাকা থেকে জুবিলি পার্ক দিয়ে চলে যাওয়া তিস্তা ও করলার মোহনার সামনেও পরিযায়ী পাখিদের দেখা যাচ্ছে। কম সংখ্যায় হলেও লাদাখ থেকে রুডি শেলডাক (চখাচখি) এবং ইউরোপ থেকে কমন পোচার্ড (মুড়িহাঁস) এসেছে। গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের ডিএফও দ্বিজপ্রতিম সেন বললেন, ‘জলাশয়, নদীতে খাবারের জোগান থাকলে শীতের সময় পরিযায়ী পাখিরা (Migratory Birds) জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এসে থাকে। তারপর ফেব্রুয়ারির শেষে ফিরে যায়।’
জুবিলি পার্ক ছাড়িয়ে প্রায় সাত কিমি দূরে তিস্তা ও করলার মোহনার কাছেই মূলত আনাগোনা পরিযায়ী পাখিদের। সুভাষ সেতুর পর থেকে তিস্তা উদ্যানের পেছন দিক থেকে বিস্তীর্ণ করলা নদীতে পরিযায়ী পাখিদের সংখ্যা কম। মোহনা এলাকায় তিস্তা নদীতে জলের স্রোত বেশি বলে পরিযায়ীরা বেশি থাকছে না। কিন্তু করলায় জল কম এবং স্রোত তেমন না থাকায় ইউরোপ থেকে আসা মুড়িহাঁস, লাদাখ ও বৈকাল হৃদ থেকে আসা চখাচখি বা রুডি শেলডাকদের দেখা যাচ্ছে। পরিযায়ী পাখিদের সঙ্গে স্থানীয় পানকৌড়িও জোট বেঁধেছে। সারালি, দোচারার মতো পাখিদেরও অল্প সংখ্যায় দেখা যাচ্ছে। জাঁকিয়ে শীত পড়লে মোহনার নির্জন পরিবেশে দেখা মিলবে কায়েম পাখি সহ কানাডা, সাইবেরিয়া থেকে আসা আরও অনেক পরিযায়ী পাখির।

