সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি: দলীয় নেতা উদয়ন গুহও বিবাদ মেটাতে পারেননি। দলের তরফেও কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। যে কারণে এখনও পুরসভার মুখ দর্শন করছেন না জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ মাহাতো। আর এতেই প্রশ্ন উঠছে বিবাদ মেটাতে দলের ভূমিকা নিয়ে। এই কারণে একরকম হতাশা থেকে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে পদত্যাগ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন সন্দীপ। যদিও সন্দীপ সংবাদমাধ্যমে বলছেন, ‘আমি এখন কিছু বলব না।’
এদিকে সৈকত ও সন্দীপের বিবাদের জের এবার সরাসরি পুরসভার কাজে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের কাজিয়া এখন শহরে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু পুরসভার কর্মসংস্কৃতি নষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন কাউন্সিলারদের একাংশ। পুরসভার এক কাউন্সিলার বলেন, ‘এই জট কাটাতে হলে সবার আগে দলের নেতৃত্বের উচিত দুজনকে একসঙ্গে বসিয়ে তাঁদের কথা শুনে সমস্যার সমাধান করা। একইসঙ্গে দলের নেতৃত্বের উচিত চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলের নামের তালিকা তৈরি করে দপ্তর বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দেওয়া। তাহলেই একমাত্র বিবাদ মিটবে।’ আর এই বিবাদ চলতে থাকায় পুরসভার কর্মসংস্কৃতির ওপরের প্রভাব ফেলছে বলে দাবি করেন ওই কাউন্সিলার। দুই নেতার বিবাদ চলতে থাকায় দলের ভাবমূর্তিতেও প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেছেন দলেরই নেতাদের একাংশ।
সৈকত এবং সন্দীপের বিবাদ মেটাতে কি তাহলে দল হাল ছেড়ে দিয়েছে? এই ব্যাপারে তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ দাবি করেছেন, ‘পুরসভার কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান দুজনকে ডেকে দল এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ সমন্বয় করে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। যে ভুল বোঝাবুঝি দুজনের মধ্যে হয়েছিল তা মিটিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে বলা হয়েছে।’ মহুয়ার কথা অনুযায়ী, দল যদি ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে সমন্বয় করে একসঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে থাকে তাহলে দুই নেতার মধ্যে বিবাদ কেন মিটছে না? সন্দীপের দাবি, ‘আমি প্রথম দিনই বলেছি সমস্ত ঘটনা দলের জেলা এবং রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। আমি দলের নির্দেশ মেনেই কাজ করব। কিন্তু এখনও আমি দলের তরফে কোনও নির্দেশ পাইনি।’ যে কারণে পুরসভায় তিনি যাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন সন্দীপ।
গত বুধবার চেয়ারম্যান সৈকতের কাজকর্ম নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে পুরসভা ছেড়ে চলে এসেছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান সন্দীপ। ঘটনার মূল কারণ হিসেবে সন্দীপের দাবি অনুযায়ী সৈকত পুরসভার যাবতীয় কাজকর্ম নিজের দখলে রাখার চেষ্টা করছেন। এতে পুরসভার কাজের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে বলে দাবি করেছিলেন সন্দীপ। কিন্তু দুই নেতার বিরোধের নেপথ্যে রয়েছে পুরসভার পূর্ত দপ্তর কার দখলে থাকবে তা নিয়ে ঠান্ডা লড়াই। চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল গঠন এবং দপ্তর বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলেও পূর্ত দপ্তরের কাজকর্ম সৈকত নিজের হাতে রেখেই দেখভাল শুরু করেছেন। অন্যদিকে, চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলের সদস্য থাকাকালীন পুরসভার পূর্ত দপ্তরের দায়িত্ব ছিল সন্দীপের হাতে। যা নিয়ে তলে তলে ঠান্ডা লড়াই শুরু হয় বলে পুরসভা সূত্রে খবর। এদিকে, গত বুধবারের পর থেকে সন্দীপ আর পুরসভামুখী হননি। দপ্তর বণ্টন না হলেও পুরসভার বেশ কিছু দৈনন্দিন কাজকর্ম থাকে যা ভাইস চেয়ারম্যানের দেখভাল করার কথা। যার মধ্যে পুরসভার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ জঞ্জাল অপসারণ বিভাগ রয়েছে। এছাড়াও পুরসভার কাজকর্মে আরও বেশকিছু ক্ষেত্রে ভাইস চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। সন্দীপ পুরসভায় না যাওয়ায় সেই সমস্ত কাজের জায়গায় কিছুটা হলেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

