শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি: সচেতনতায় প্রচার, দুর্ঘটনা কোনওকিছুতেই হুঁশ ফিরছে না। ফের গরুমারা ও লাটাগুড়ির (Lataguri) জঙ্গলের মাঝে জাতীয় সড়কে শাবক সহ একটি হাতিকে উত্ত্যক্ত করার ঘটনা ঘটল। তাদের ঘিরে সেলফি আর ছবি তোলার হিড়িকে এক সময় মেজাজ হারিয়ে কয়েকজনের দিকে তেড়েও যায় হাতিটি। ডুয়ার্সের একাধিক জায়গায় বারবার এ ধরনের ঘটনায় ক্ষোভ ছড়ায় পরিবেশপ্রেমীদের মধ্যে। বন দপ্তরের কর্তারাও এমন ঘটনায় বিরক্ত।
উত্তরবঙ্গ বন্যপ্রাণ বিভাগের মুখ্য বনপাল ভাস্কর জেভি বলেন, ‘দিন-দিন এই ধরনের ঘটনা বৃদ্ধির বিষয়টি সত্যি উদ্বেগের। বনকর্মীরা এই ধরনের ঘটনা আটকাতে যথেষ্ট সচেষ্ট। কিন্তু মানুষ সচেতন না হলে এ ধরনের ঘটনা পুরোপুরি আটকানো সম্ভব নয়।’
সপ্তাহখানেক আগেই বৈকুণ্ঠপুরের জঙ্গল থেকে বেরিয়ে লোকালয়ে চলে আসা একটি দাঁতালকে আর্থমুভার দিয়ে উত্ত্যক্ত করায় হাতিটি একসময় আর্থমুভারে ধাক্কা মারে। একটি নজরমিনারেও ধাক্কা মেরে হাতিটি গুরুতর আহত হয়। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এদিন ফের হাতির সামনে গিয়ে সেলফি নেওয়া ও ছবি তোলার ঘটনা প্রকাশ্যে এল। ঘটনায় হাতি বা সাধারণ মানুষ কেউ আহত না হলেও মেজাজ হারিয়ে মাঝে মা হাতিটি তেড়ে আসে।
সোমবার জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri News) লাটাগুড়ি ও গরুমারা জঙ্গলের মাঝে ৭১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে মহাকালধামের কিছু আগে দুপুর বারোটা নাগাদ শাবক ও একটি বড় হাতি দাঁড়িয়ে পড়ে। যার ফলে জাতীয় সড়কের ওই পথে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। অনেকেই গাড়ি থেকে নেমে বা মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে মোবাইল দিয়ে হাতির ছবি তোলার জন্য ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। অনেকেই আবার সেলফি নিতে শুরু করেন হাতিদের সঙ্গে। মিনিট দশেক এভাবে চলতে থাকায় এক সময় মা হাতিটি তেড়ে আসে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে থাকা ব্যক্তিদের দিকে। তবে শেষপর্যন্ত হাতিটি কারও ক্ষতি করেনি। কিছুক্ষণ পরেই মা ও শাবক জঙ্গলে ফেরত গেলে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।
এই ঘটনার পরেই ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন পরিবেশপ্রেমীরা। লাটাগুড়ির পরিবেশপ্রেমী অনির্বাণ মজুমদার অভিযোগ করেন, ‘সাধারণ মানুষকে হাজার সচেতন করার পরও একই ঘটনা ঘটে চলেছে।’
ময়নাগুড়ি রোড পরিবেশপ্রেমী সংগঠনের সম্পাদক নন্দু রায় বলেন, ‘মানুষকে সচেতন করতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারপরও এ ধরনের ঘটনা মোটেই কাম্য নয়। এই ঘটনা রুখতে আগামীতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’ বন দপ্তরের লাটাগুড়ির রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত বলেন, ‘জঙ্গল লাগোয়া ওই এলাকা হাতিদের করিডর। প্রায়শই হাতিরা এখান দিয়ে রাস্তা পারাপার করে। প্রতিদিন জঙ্গলের পথে বনকর্মীরা লাগাতার নজরদারি চালান। এদিনও ওই পথে নজরদারি ছিল।’

