রহিদুল ইসলাম, মেটেলি: চার সদস্যের এক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী পরিবারকে গ্রেপ্তার করেও ছেড়ে দিল জলপাইগুড়ি জেলার পুলিশ! তাঁদের বিরুদ্ধে ১৪ ফরেনার্স অ্যাক্টে মামলা রুজু না করে ছেড়ে দেওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে আপাতত তাঁদের এলাকা ছাড়তে বারণ করা হয়েছে। এরপর ওই হিন্দু পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ফুলের মালা পরিয়ে শুক্রবার মিছিল করে বিজেপি। বিষয়টি নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল।
বৃহস্পতিবার রাতভর জেরা করা হয় জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) মাটিয়ালি ব্লকের বিধাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবরাবস্তি এলাকা থেকে আটক বাংলাদেশি দম্পতি, তাঁদের দুই সন্তান এবং তাঁদের আশ্রয় দেওয়া গৃহকর্তাকে। জিজ্ঞাসাবাদের পর শুক্রবার সকালে সকলকে ছেড়ে দেয় মেটেলি থানার পুলিশ। মুক্তি পাওয়ার পরে ওই শরণার্থী পরিবারকে নিয়ে মেটেলি বাজার ও বাতাবাড়ি ফার্ম বাজারে মিছিল করে বিজেপি নেতৃত্ব। রাতভর তাদের থানায় আটকে রাখার জন্য পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তারা।
জলপাইগুড়ি জেলার পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট খান্ডবাহালে উমেশ গণপত বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিধাননগর এলাকায় বহিরাগতদের নিয়ে তথ্য পাওয়া যায়। ওই পরিবারকে থানায় আনা হয়। বিস্তারিত অনুসন্ধান করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে ইতিমধ্যেই। তারপর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে।’
জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলা থেকে জগদীশচন্দ্র রায় ও সুচিত্রারানি রায় তাঁদের ১১ বছর ও ৫ বছরের দুই সন্তানকে নিয়ে গতবছর ডিসেম্বর থেকে বিধাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোবরাবস্তি এলাকার হরকুমার বর্মনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার পুলিশ ওই দম্পতি সহ গৃহকর্তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এদিন সকালে তাঁদের ছাড়ার সময় হাজির ছিলেন বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনোজ ভুজেল, বিধায়ক পুনা ভেংরা, জেলা নেতা মজনুল হক, মেটেলি আপার মণ্ডল সভাপতি অমিত ছেত্রী, সমতল মণ্ডল সভাপতি মুন্না আলম সহ অন্য নেতা-কর্মীরা। জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনোজ বলেন, ‘ভারত সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় কারণে আসা নির্যাতিত হিন্দুরা কোনও নথি ছাড়া আশ্রয় নিতে পারবেন। নির্দেশিকা অমান্য করে মেটেলি থানার পুলিশ ওই পরিবারকে থানায় নিয়ে এসে রাতভর আটকে রাখে। রাজ্যের পুলিশ তৃণমূলের কথামতো কাজ করছে। আগামীতে যদি পুলিশ কোনও শরণার্থীকে হেনস্তা করে তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে।’ শরণার্থী জগদীশচন্দ্র বলেন, ‘২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ছাত্র লিগের অত্যাচারে সপরিবার ভারতে এসেছি। বাংলাদেশে এখনও মা-বাবা রয়েছেন। এতদিন কাকুর বাড়িতে ছিলাম।’
যদিও বিজেপির মিছিলকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের মেটেলি ব্লক সভানেত্রী স্নোমিতা কালান্দি বলেন, ‘পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে। এই ধরনের মিছিল এবং বিক্ষোভ করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বিজেপি। মানুষ সব জানে। এতে বিজেপির কোনও লাভ হবে না।’

