পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: রাজ্যে প্রথম উন্নতমানের সুস্বাদু এমডি ২ প্রজাতির আনারস (Pineapple) চাষের পাইলট প্রকল্প শুরু হল জলপাইগুড়ি হর্টিকালচার দপ্তরের মোহিতনগরের পুরোনো খামারবাড়িতে। প্রায় ২ বিঘা জমিতে ১০ হাজার এই উন্নত প্রজাতির আনারসের চারা রোপণ করা হয়েছে। আগামী ১৫ মাসের মধ্যে গাছে ফলন আসবে বলে হর্টিকালচার দপ্তর জানিয়েছে। পাইলট প্রকল্প সফল হলে জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলা সহ উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাতে চাষিদের মধ্যে উন্নত প্রজাতির আনারস চাষ শুরু করা হবে।
হর্টিকালচার দপ্তরের সহকারী অধিকর্তা খুরশিদ আলম জানিয়েছেন, উন্নত এমডি ২ প্রজাতির আনারসের সঙ্গে দেশীয় আনারসের সবদিক থেকেই অনেক পার্থক্য। সাধারণ আনারসে প্রচুর অ্যাসিড থাকে। এমডি ২ প্রজাতির উন্নত আনারসে পয়েন্ট ৪ শতাংশ অ্যাসিড থাকে। সাধারণ আনারসের গায়ে অনেক চোখের মতো অংশ থাকে যা কেটে বাদ দিলে আনারসের পরিমাণ কমে যায়। উন্নত জাতের আনারসে চোখ থাকে না। সাধারণ আনারসের তুলনায় এমডি ২ প্রজাতির আনারসের মিষ্টতা অনেক বেশি। তাছাড়া উন্নত প্রজাতির আনারসে বাদামি রংয়ের রোগের প্রাদুর্ভাব থাকে না। সাধারণ আনারস গাছের পাতা খসখসে হয়, উন্নত প্রজাতির আনারসের গাছের পাতা মসৃণ হয়। এক একটি উন্নত আনারস ফল দেড় কেজি থেকে ২ কেজি ওজনের হয়। তিনি বলেন, ‘পাইলট প্রোজেক্ট সফল হলে উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাতে এই চাষ শুরু করা হবে।’


এই উন্নত প্রজাতির আনারস গাছকে টিস্যু কালচার করার পর মোহিতনগরে রোপণ করা হয়েছে। মোহিতনগর খামারের ১ বিঘা জমিতে ৫ হাজার আনারস চাষ শুরু করা হয়েছে খোলা জায়গায়। বাকি ১ বিঘা জমিতে আরও ৫ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে অন্যান্য অন্য বড় গাছের ফাঁকে ফাঁকে। এই প্রকল্প রাজ্যের মধ্যে একমাত্র মোহিতনগরের খামারেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করা হয়েছে। যদি সফল হয় উত্তরবঙ্গজুড়েই চাষ করা হবে বলে হর্টিকালচার দপ্তর জানিয়েছে। এই উন্নত প্রজাতির আনারস স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি রাজ্যের বাইরে পাঠানো যাবে বলে হর্টিকালচার দপ্তরের উপ অধিকর্তা অলোক মণ্ডল জানিয়েছেন। মোহিতনগরের হর্টিকালচার দপ্তরের পুরোনো খামারে দেশীয় প্রজাতির আনারস চাষ হয়ে আসছে। কিন্তু ফলন খুব একটা ভালো না হলেও মিষ্টতা তেমন থাকত না। তাই উন্নত এমডি ২ প্রজাতির আনারস চাষের পাইলট প্রকল্প শুরু করা হল। দপ্তরের বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস, যেভাবে উন্নত আনারস গাছ বেড়ে উঠছে আগামী ১৫ মাস পর ফলন ভালো দেবে।

