পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি পুর এলাকায় বছরের পর বছর ধরে উন্নয়নের কাজ করেও ভোটে শহরবাসীর মন পাওয়া যায় না কেন, তার উত্তর খুঁজতে শহরে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অফিসের পাশাপাশি আইপ্যাকের বাছাই করা প্রতিনিধি শুক্রবার জলপাইগুড়ি পুরসভার কাউন্সিলারদের এক এক করে ডেকে কথা বললেন। পুরসভার কাজকর্ম সম্পর্কে তাঁদের মূল্যায়ন কী, সে সম্পর্কে রিপোর্ট নিলেন তাঁরা।
সূত্রের খবর, পুরসভার ২২টি ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলারদের কাছে জলপাইগুড়ি পুরসভায় চেয়ারপার্সন পাপিয়া পাল ও ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের কাজকর্ম ও ভাবমূর্তি নিয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। এত উন্নয়ন করার পরেও কেন বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল অধিকাংশ ওয়ার্ডে পিছিয়ে রয়েছে, কী করলে লিড আসতে পারে তা জানতে চেয়েছেন রাজ্য নেতৃত্বের প্রতিনিধিরা। জলপাইগুড়ি পুরসভার কোন দপ্তরে কেমন কাজ হচ্ছে এবং চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলের পদ তিনটি থেকে বাড়ানো উচিত কি না, সে সম্পর্কেও কাউন্সিলারদের মতামত নেওয়া হয়েছে।


এর আগে জলপাইগুড়ি শহরে এসে দলের নেতা-কর্মী থেকে সাধারণ মানুষের মতামত নিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের প্রতিনিধিরা। এদিন জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল অফিসে জেলা তৃণমূল সভাপতির চেম্বারে এক একজন করে দলীয় কাউন্সিলারকে ডেকে কথা বলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের ও আইপ্যাকের প্রতিনিধিরা। জলপাইগুড়ি পুরসভায় বর্তমানে সন্দীপ মাহাতো, স্বরূপ মণ্ডল ও লোপামুদ্রা অধিকারী, এই তিনজন চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল রয়েছেন। প্রত্যেকের হাতে এক বা দুটি করে দপ্তর রয়েছে। সন্দীপ পূর্ত, স্বরূপ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ছাড়া অন্য গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে নেই। চেয়ারপার্সন অর্থ ছাড়াও অফিসের দায়িত্বে আছেন। সেখানে ভাইস চেয়ারম্যানের হাতে জল, আম্রুত প্রকল্প, আবর্জনা সাফাই, জাতীয় স্বাস্থ্য, মিড-ডে মিল মিলিয়ে মোট ৮টি দপ্তর রয়েছে। সূত্রের খবর, বিষয়টি নিয়ে কাউন্সিলারদের একাংশ ক্ষোভ জানিয়েছেন প্রতিনিধিদের কাছে।
এদিন পুরসভার বিভিন্ন দপ্তরের কাজকর্ম কেমন হচ্ছে, কতজন কর্মী রয়েছেন, সে সম্পর্কেও খোঁজ নিয়েছেন প্রতিনিধিরা। পুরসভার নিজস্ব আয় খুব কম, তাই অস্থায়ী কর্মীদের বেতন ও অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন দিতেই টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। কীভাবে পুরসভার আয় বাড়ানো যায়, সেই বিষয়েও মতামত দিয়েছেন কাউন্সিলাররা।
সূত্রের খবর, ভাইস চেয়ারম্যান এতগুলি দপ্তরের দায়িত্ব সামলাতে পারছেন কি না, কোন দপ্তরের কাজ ভালো হচ্ছে না, কেন হচ্ছে না, সেইসব বিষয়ে খুঁটিয়ে জানতে চাওয়া হয়। এমনকি জলপাইগুড়ি পুরসভায় চেয়ারপার্সন ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে কি নতুন মুখ চান, কেন চাইছেন, কাদের কে চাইছেন এইসব বিষয়ে গোপন মতামত চাওয়া হয়েছে কাউন্সিলারদের থেকে।
এদিন সমস্ত কাউন্সিলারকেই জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এত উন্নয়নমূলক কাজ করার পরেও কেন তাঁর ওয়ার্ডে তৃণমূল বিগত নির্বাচনগুলিতে পিছিয়ে রয়েছে। সাংগঠনিক না কি অন্য কোনও খামতি রয়েছে?
এদিন তৃণমূল জেলা সভাপতি জেলা অফিসে আসার পর তাঁর সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিস ও আইপ্যাকের প্রতিনিধিরা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। জেলা সভাপতি অফিস থেকে বেরিয়ে যেতেই কাউন্সিলারদের একে একে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দলীয় অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তৃণমূল জেলা সভানেত্রী মহুয়া গোপ। তবে, তৃণমূলের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ধূপগুড়ি পুরসভা বাদে মাল ও ময়নাগুড়ি পুরসভার সার্বিক পরিবর্তন বিষয়েও সেখানকার দলীয় কাউন্সিলারদের সঙ্গে কথা বলবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও আইপ্যাকের প্রতিনিধিরা। পুরসভাগুলিতে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তন ছাড়াও দপ্তরের রদবদল নিয়ে পুজোর পরেই নির্দেশ দেওয়া হবে।

