অভিরূপ দে, ময়নাগুড়ি: শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে রেকর্ড ভিড় হল জল্পেশের শ্রাবণীমেলায় (Jalpesh)। মন্দির কমিটির হিসেব অনুযায়ী রবিবার বিকেল থেকে সোমবার সন্ধে পর্যন্ত পাঁচ লাখের ওপর মানুষ এসেছে। রবিবার রাতে মন্দির খোলার আগে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু ঘটনা ঘটলেও রাত বারোটার পর প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফলে এক সঙ্গে অনেক মানুষ চলে আসলেও, কোনও রকমের বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। নির্বিঘ্নে জল ঢালতে পেরে খুশি পুণ্যার্থীরাও। পাশাপাশি ব্যবসা ভালো হওয়ায় খুশি ব্যবসায়ীরা। সুষ্ঠুভাবে এদিন নির্বিঘ্নে মেলা সম্পূর্ণ হওয়ায়, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তারা।
জল্পেশ মন্দির ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক গিরিন্দ্রনাথ দেব বলেন, ‘মন্দিরে যাতে কোনও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেকারণে বেশির ভাগ পুণ্যার্থীকেই বিনা টিকিটে মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে। পুরোপুরি হিসেব না হলেও প্রাথমিক হিসেবে এদিন ৫০ হাজারের কিছু বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে।’


ভিড়ের কারণে ব্যবসা ভালো হওয়ায় খুশি ব্যবসায়ীরাও। মেলায় ক্ষিরের প্যাড়ার দোকান দিয়েছেন রবীন মণ্ডল। সোমবার সকালের মধ্যেই দোকানের প্রায় সব প্যাড়া বিক্রি হয়ে যাওয়ায় খুশি রবিন বলেন, ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হলে ব্যবসা ভালো হয় না। এদিন এত ভিড়ের মধ্যেও কোথাও গণ্ডগোল না হওয়ায় আমাদের ব্যবসা ভালো হয়েছে। লাভের মুখ দেখতে পেরেছি।’ একই বক্তব্য ব্যবসায়ী সুকুমার রায়, দেবেশ সরকার, অভিষেক সাহার।
জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার খান্ডবাহালে উমেশ গণপত জানিয়েছেন, এসপ্তাহে মেলাকে সুষ্ঠুভাবে সম্পূর্ণ করা তাঁদের কাছে চ্যালেঞ্জের ছিল। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হয়েছে বলে তিনি জানান।
মালদা থেকে জল ঢালতে আসা এক পুণ্যার্থী রাজীব দেব বলেন, ‘এত ভিড়ের মধ্যে একদম সুষ্ঠুভাবে জল ঢালতে পেরে ভালো লাগছে।’ কুমারগ্রাম থেকে আগত পুণ্যার্থী সমর সরকার জানিয়েছেন, টিকিট কাটার পর এত ভিড় দেখে তিনি ভেবেছিলেন ৭-৮ ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু ঘণ্টা খানেকের মধ্যে মন্দিরে প্রবেশ করে জল ঢালতে পারায় খুশি তিনি।
রবিবার সন্ধ্যার পর থেকে খান্ডবাহালে, ময়নাগুড়ির বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডু, ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবল ঘোষ সহ অন্য আধিকারিকরা জল্পেশ মন্দিরে ছিলেন। ভিড় এড়াতে পুলিশের তরফ থেকে পূর্ত দপ্তরের তৈরি নবনির্মিত সেতু দিয়ে পুণ্যার্থীদের প্রবেশ করানোর জন্য তা খুলে দেওয়া হয়। অতিথি নিবাসের সামনে তৈরি করা টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কেটে, পুণ্যার্থীদের সেই লাইনকে মন্দিরের দ্বিতীয় গেট দিয়ে ভেতরে ঢোকানো হয়। সমান তালে স্কাইওয়াক, শিবচতুর্দশী গেট দিয়েও পুণ্যার্থীদেরকে মন্দিরে ঢোকানো হয়।
মন্দিরের ভেতর যাতে ভিড় বেশি না হয় সেজন্য পুণ্যার্থীদের জল ঢালা মাত্রই বাইরে বের করে দেওয়া হয়। কত সংখ্যায় মানুষ মন্দিরের দিকে এগিয়ে আসছেন প্রত্যেক মুহূর্তের সেই হিসেব নিয়ে ড্রপ গেটের মাধ্যমে অত্যন্ত পাঁচ জায়গায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা হয়। অতিরিক্ত যানবাহন এসে যাওয়ায় বাড়তি যানবাহন ময়নাগুড়ি ইন্দিরা মোড় সংলগ্ন এলএনটি মাঠে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এদিন মেলাকে সুষ্ঠুভাবে সম্পূর্ণ করতে পুলিশের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

