অভিরূপ দে, ময়নাগুড়ি: ৩৩ লক্ষেরও বেশি টাকা দিয়ে চলতি বছর জল্পেশমেলার (Jalpesh Mela Preparation) ইজারা নিয়েছেন স্থানীয় এক ব্যবসায়ী। টাকার অঙ্কটা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭ লক্ষ টাকা বেশি। গত বছর মেলার ইজারা বাবদ দরপত্র পড়েছিল ২৬ লক্ষ টাকা। এবছর আরও ১০ শতাংশ টাকা বর্ধিত করে জেলা পরিষদের তরফে মেলার দরপত্র আহ্বান করা হয়। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সভাধিপতি কৃষ্ণা রায় বর্মন জানিয়েছেন, জল্পেশমেলার ইজারার জন্য টেন্ডার হয়েছে। ৩৩ লক্ষ ৩৩ হাজার ৩৩৪ টাকা দরপত্রে মেলার ইজারা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দোকানের ভাড়া নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। মেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পূর্ণ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি শিবরাত্রি (Shivratri)। সেই উপলক্ষ্যে সেজে উঠছে জল্পেশ মন্দির। মন্দির গাত্রে রংয়ের নতুন প্রলেপ পড়েছে। মূল মন্দিরের পাশাপাশি মন্দিরের গর্ভগৃহ, মহাকাল মন্দির, কুবেরেশ্বর মন্দির, নারায়ণ মন্দির ও কালী মন্দিরেও রং করা হচ্ছে। মেলার মাঠে নাগরদোলা বসানো সহ দোকান তৈরির কাজ চলছে। জল্পেশ মন্দির ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক গিরীন্দ্রনাথ দেব বলেন, ‘শিবরাত্রিতে সকাল থেকে পুণ্যার্থীদের জন্য মন্দির খুলে দেওয়া হবে। মন্দির অত্যাধুনিক আলো দিয়ে সাজানো হবে।’


নির্বিঘ্নে জল্পেশমেলা সম্পন্ন করতে পুলিশের প্রস্তুতিও তুঙ্গে। ময়নাগুড়ি (Mainaguri) ইন্দিরা মোড় থেকে জল্পেশমেলার মাঠ পর্যন্ত একাধিক জায়গায় পুলিশ মোতায়েন করা হবে। এছাড়া টহল দেবে পুলিশের মোবাইল ভ্যান। জল্পেশ মন্দিরে উর্দিধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবল ঘোষ বলেছেন, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে মন্দির ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন করা হবে। কোনও খামতি রাখা হবে না।’
গত বছর মেলায় আসা দোকানদারদের থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেবার অভিযোগ উঠেছিল মেলার ইজারাদারের বিরুদ্ধে। নজিরবিহীন বিক্ষোভের সাক্ষী ছিল জল্পেশ। দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। মেলায় দোকান দেওয়া ব্যবসায়ীদের একাংশের বক্তব্য, গতবছর যেভাবে দোকানদারদের থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হয়েছিল, এবছর তেমন ঘটনা যেন না ঘটে। দোকানের ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হলে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী মেলা থেকে মুখ ফেরাবেন।

