উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ অদম্য মানসিক শক্তি আর কোর্টে অসাধারণ ক্ষিপ্রতা—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে ক্যালিফোর্নিয়ার তপ্ত দুপুরে ইতিহাস লিখলেন ইয়ানিক সিনার। রবিবার ইন্ডিয়ান ওয়েলস এটিপি মাস্টার্স ১০০০ (Indian Wells ATP Masters 1000) টুর্নামেন্টের ফাইনালে দানিল মেদভেদেভকে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ইন্ডিয়ান ওয়েলস শিরোপা ঘরে তুললেন বিশ্বের দুই নম্বর এই তারকা।
টাইব্রেকারের রোমাঞ্চ
পুরো ম্যাচে একবারও সার্ভ ব্রেক করতে পারেননি কোনো খেলোয়াড়। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ফল নির্ধারিত হয় দুটি রুদ্ধশ্বাস টাইব্রেকারে। ১ ঘণ্টা ৫৫ মিনিটের লড়াই শেষে ম্যাচের ফলাফল সিনারের পক্ষে ৭-৬ (৮/৬), ৭-৬ (৭/৪)।
ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত সিনার বলেন, “আমি শুধু নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম এবং চেষ্টা চালিয়ে গেছি। তৃতীয় সেটে গেলে ম্যাচটি যেকোনো দিকে ঘুরতে পারতো, তাই আমি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের সেরাটা দিয়ে ম্যাচ শেষ করতে চেয়েছি।”
মেদভেদেভের আধিপত্য ও সিনারের প্রত্যাবর্তন
দুবাই চ্যাম্পিয়ন মেদভেদেভ টানা ৯ ম্যাচ জিতে ফাইনালে এসেছিলেন। সেমিফাইনালে বিশ্বের এক নম্বর তারকা কার্লোস আলকারাজকে হারিয়ে তিনি ছিলেন টগবগে ফর্মে। দ্বিতীয় সেটের টাইব্রেকারে একসময় ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন মেদভেদেভ। কিন্তু সেখান থেকেই অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ান সিনার।
ম্যাচের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান:
• প্রথম সার্ভিস পয়েন্ট: সিনার তার প্রথম সার্ভিসের ৪৭টি পয়েন্টের মধ্যে ৪৩টিই জিতেছেন।
• ব্রেক পয়েন্ট: পুরো ম্যাচে সিনার একটিও ব্রেক পয়েন্টের মুখোমুখি হননি।
• বিরল রেকর্ড: নোভাক জোকোভিচ এবং রজার ফেডেরারের পর তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে এটিপির ছয়টি হার্ডকোর্ট মাস্টার্স ১০০০ টুর্নামেন্ট জয়ের অনন্য কীর্তি গড়লেন সিনার।
লক্ষ্য এবার ‘সানশাইন ডাবল’
২০২৬ সালের প্রথম শিরোপা জিতে সিনারের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। তবে উদযাপনের জন্য খুব বেশি সময় পাচ্ছেন না তিনি। আগামী বুধবার থেকেই শুরু হচ্ছে মিয়ামি ওপেন। ইন্ডিয়ান ওয়েলসের পর মিয়ামি জিতলে পূর্ণ হবে মর্যাদাপূর্ণ ‘সানশাইন ডাবল’। সিনার জানান, “হাতে মাত্র কয়েক দিন সময় আছে বিশ্রাম নেওয়ার। মিয়ামিতেও আমরা আমাদের সেরা টেনিস খেলার চেষ্টা করব।”

