অভিরূপ দে, ময়নাগুড়ি: ময়নাগুড়ি ব্লকের (Mainaguri) চূড়াভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অবস্থিত জটিলেশ্বর মন্দির (Jatileswar Temple)। জল্পেশ মন্দির থেকে জটিলেশ্বর মন্দিরের দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। মন্দিরটি কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেব্যাপারে নানা মত রয়েছে। যদিও প্রত্নতত্ত্ববিদরা মনে করেন জটিলেশ্বরের মন্দিরটি নবম শতকে তৈরি।
মন্দিরে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে বিভিন্ন অংশে ধ্বংসাবশেষ পড়ে রয়েছে৷ গবেষকদের অনেকের মতে, মন্দিরের ধ্বংসাবশেষগুলি পাল যুগের। আবার অন্য অংশের মতে, এই ধ্বংসাবশেষ গুপ্ত যুগের। দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরটির এমন ছবি দেখে হতাশ হতেন পুণ্যার্থীরা। তবে পর্যটন দপ্তরের তরফে জল্পেশ মন্দিরকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে।
জল্পেশ মন্দিরের মতো জটিলেশ্বর মন্দিরেও শিবলিঙ্গ রয়েছে মাটির নীচে। মন্দিরের পূর্বদিকে পুকুর বাঁধাই করা হয়েছে৷ মন্দিরের গর্ভগৃহে করা হয়েছে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। পুকুরপাড়ের বাঁধাই করা অংশে পর্যটকদের বসার ব্যবস্থা হয়েছে। এছাড়াও মন্দিরের ফটক থেকে মূল মন্দির পর্যন্ত অংশে রঙিন পেভার্স ব্লক বসিয়ে সৌন্দর্যায়ন করা হয়েছে। ‘ডুয়ার্স মেগা ট্যুরিজম’ প্রকল্পের অধীনে মন্দিরটির পুরোনো কাঠামো অক্ষত রেখেই প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে কয়েক বছর আগে মন্দির চত্বর ঢেলে সাজানো হয়েছে। যদিও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ।
জটিলেশ্বর মন্দিরে সারাবছরই পুণ্যার্থীদের ভিড় থাকে। তবে শ্রাবণ ও ফাল্গুন মাসে ভিড় হয় সবথেকে বেশি৷ স্থানীয়দের পাশাপাশি বাইরে থেকেও প্রচুর পুণ্যার্থী আসেন জটিলেশ্বর মন্দিরে। এছাড়া জল্পেশ মন্দিরে পুজো দিয়ে অনেক পুণ্যার্থী জটিলেশ্বর মন্দিরে আসেন।

