উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: কয়েক দশকের দীর্ঘ কূটনৈতিক বরফ গলিয়ে ইরানের সঙ্গে সরাসরি শান্তি আলোচনায় বসতে চলেছে আমেরিকা। এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের নেতৃত্ব দিতে শুক্রবার পাকিস্তানের (Pakistan) উদ্দেশ্যে রওনা হলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স (JD Vance)। ইসলামাবাদের এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠককে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে এখন চরম উত্তেজনা।
রওনা হওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেডি ভ্যান্স তাঁর মিশ্র প্রতিক্রিয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, “আমরা এই আলোচনার অপেক্ষায় আছি। আমার ধারণা এটি ইতিবাচক হবে।” তবে কূটনৈতিক এই আশাবাদের পাশাপাশি তেহরানকে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিতেও ছাড়েননি তিনি। ভ্যান্স স্পষ্ট করে দেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন কেবল ‘সদিচ্ছা’র ভিত্তিতেই আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাবে।


জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যে মার্কিন প্রশাসনের দ্বিমুখী রণকৌশল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আলোচনার টেবিল সম্পর্কে তাঁর প্রধান মন্তব্যগুলি হলো:
- খোলা হাত: ভ্যান্সের কথায়, “প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) যেমনটা বলেছেন, ইরান যদি সদিচ্ছার সাথে আলোচনা করতে রাজি থাকে, তবে আমরাও বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত।”
- কড়া অবস্থান: উল্টোদিকে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “যদি তারা আমাদের সাথে কোনো চালাকি করার চেষ্টা করে, তবে দেখবে এই নেগোশিয়েটিং টিম মোটেও নমনীয় নয়।”
- সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বৈঠকের জন্য ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন দলকে কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা (Guidelines) দিয়েছেন, যা মেনেই আলোচনা চলবে।
ইসলামাবাদে (Islamabad) অনুষ্ঠিত হতে চলা এই আলোচনাকে কয়েক দশকের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ যোগাযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বৈঠকের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে:
- মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে জারি থাকা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ।
- আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নিরাপত্তা।
- আমেরিকা ও ইরানের দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্কের সম্ভাব্য অবসান।
ইতিমধ্যেই ইসলামাবাদের রেড জোন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলি মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস ও পাক সেনার কড়া নজরদারিতে রয়েছে। জেডি ভ্যান্সের এই সফরের মাধ্যমে হোয়াইট হাউস প্রমাণ করতে চাইছে যে, যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যের জট খুলতে আগ্রহী। এখন দেখার বিষয়, ভ্যান্সের এই কঠোর ও নরম বার্তার জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে।

