ভেনিস : বিয়ে তো নয়, যেন আভিজাত্য ও বিলাসের প্রদর্শনী! এহেন রাজকীয় পরিণয়ের সাক্ষী হল শিল্প ও প্রেমের নগরী ইতালির ভেনিস।
চলতি সপ্তাহে রীতিমতো ঢাকঢোল পিটিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসে পড়েছেন অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা ধনকুবের জেফ বেজোস ও প্রাক্তন সাংবাদিক লরেন সানচেজ। তবে দুই তারকার চারহাত এক হওয়ার মুহূর্তেও বিতর্ক তাঁদের পিছু ছাড়েনি। বিলাসবহুল বিয়ের বিরুদ্ধে শহরজুড়ে প্রতিবাদ জারি রয়েছে।


শুক্রবার সান জর্জিও দ্বীপে বিবাহবাসর বসে বেজোস ও সানচেজের। দু’জনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের অন্তিম পর্বটি শনিবার আর্সেনালের একটি প্রেক্ষাগৃহে সম্পন্ন হবে। মধ্যযুগে এই বাড়িটি একটি জাহাজ নির্মাণ কারখানা ছিল। যদিও বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে শিল্পকলা প্রদর্শশালা হিসাবে।
বেজোস-সানচেজের হাই-প্রোফাইল বিয়ে উপলক্ষ্যে গত কয়েকদিন ধরে শহরের আকাশে উড়ছে প্রাইভেট জেট। লেগুনে ভাসছে বিশাল ইয়ট। চারপাশে সাজোসাজো রব। নিষিদ্ধ ড্রোন ও সাধারণ যানবাহন। মাছি গলার উপায় নেই। সর্বত্র নজরদারি পুলিশের। ঠাইঁ নাই দশা শহরের সমস্ত তারাখচিত হোটেলের। অনেকে ‘শতাব্দীর সেরা বিয়ে’র তকমা দিয়েছেন এই অনুষ্ঠানকে। যাতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫ কোটি মার্কিন ডলার।
বিবাহপর্ব শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার থেকে। শ’তিনেক সেলেবকে আমন্ত্রণ জানানো হয় এই বিয়েতে। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ধনকুবের বিল গেটস, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও তাঁর জামাই জ্যারেড কুশনার, ব্রিটিশ অভিনেতা অরল্যান্ডো ব্লুম ও জর্ডনের রানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টেলিভিশন সাংবাদিক অপরাহ উইনফ্রে, ক্রিনস জেনার, কিম কার্দেশিয়ান, টাইটানিকের নায়ক লিওনার্দো ডি’ক্যাপ্রিও প্রমুখ তারকা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কানারেজিও জেলার একটি মধ্যযুগীয় গির্জা মাদোনা দেল’অর্তোয় জড়ো হন অতিথিরা। অতিথিদের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রাখতে মধ্যরাত পর্যন্ত ওই এলাকায় হাঁটাচলা ও জলযান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়।
তার আগে বুধবার একটি হেলিকপ্টারে করে ভেনিসে আসেন জেফ বেজোস (৬১) ও লরেন সানচেজ (৫৫)। তাঁরা বিলাসবহুল আমান হোটেলে ওঠেন। তাঁদের কক্ষ থেকে গ্র্যান্ড ক্যানেলের দৃশ্য উপভোগ করা যায়। প্রতি রাতে এই কক্ষের ভাড়া ৪ হাজার ৬৮৬ ডলার।
এদিকে স্রেফ অর্থের বিনিময়ে ভেনিসের মতো সুন্দর শহরকে অতিধনীদের হাতে তুলে দেওয়ায় চটে গিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা। তাঁদের অভিযোগ, চাঁদির জুতোয় ঘায়েল হয়েছে ভেনিস প্রশাসন। ধনীদের খুশি রাখতে শহরের দরজা এভাবে হাট করে খুলে দেওয়া হলে এর প্রকৃতি ও পরিবেশ আর সুরক্ষিত থাকবে না।
এই বিয়েকে ‘ধনিক শ্রেণির আত্মপ্রচারের’ প্রতীক হিসাবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের উদ্যোগে সেন্ট মার্ক’স স্কোয়ারে বিক্ষোভও হয়েছে। ‘নো স্পেস ফর বেজোস’ ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখানোয় বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে স্থানীয় পুলিশ।

