অভিরূপ দে, ময়নাগুড়ি: জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলায় একাধিক স্কুলে পড়ুয়ার তুলনায় শিক্ষক-শিক্ষিকা অপ্রতুল। ময়নাগুড়ি ব্লকের চূড়াভাণ্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝাজাঙ্গি জুনিয়ার হাইস্কুলে (Jhajhangi Jr. High School) অবশ্য উলটো ছবি। পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চারটি ক্লাস নিয়ে চলা এই স্কুলে মাত্র ২২ জন পড়ুয়া থাকলেও ৫ জন শিক্ষক–শিক্ষিকা, ১ জন কম্পিউটারের শিক্ষক এবং ১ জন শিক্ষাকর্মী রয়েছেন। দোতলা ভবন বিশিষ্ট বিদ্যালয়টিতে পরিকাঠামোর কোনও খামতি নেই। অফিস রুম ছাড়াও ৫টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। গোটা স্কুলের চারপাশ বাউন্ডারি ওয়ালে মোড়া। কিন্তু স্কুলটিতে সেভাবে পড়ুয়ার দেখা মেলে না। গ্রামের বেশিরভাগ পড়ুয়াই প্রাথমিকের পাঠ শেষ করে হাইস্কুলে ভর্তি হচ্ছে।
অভিভাবকরা জানাচ্ছেন, জুনিয়ার হাইস্কুলে পড়ুয়াদের ভর্তি করা হলে অষ্টম শ্রেণির পর তাদের আবার স্কুল বদলাতে হয়। এভাবে ঘনঘন স্কুল বদলে পড়ুয়াদের সমস্যা রয়েছে। সে কারণেই এই জুনিয়ার হাইস্কুলটি সমস্যায় ভুগছে। একই সুরে স্কুলটির টিচার ইনচার্জ জয়দীপ ভৌমিকের বক্তব্য, ‘ঘনঘন স্কুল পরিবর্তন এড়াতে এলাকার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকা পড়ুয়ারা চতুর্থ শ্রেণি পাশের পর সরাসরি মাধ্যমিক কিংবা উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বিদ্যালয়ে গিয়ে ভর্তি হচ্ছে। ফলে আমরা সেভাবে পড়ুয়া পাচ্ছি না।’
ময়নাগুড়ি থেকে ধূপগুড়ি যাবার পথে ঝাজাঙ্গি বাজার পেরিয়ে ইস্ট-ওয়েস্ট করিডরের চার লেনের মহাসড়ক লাগোয়া নিরিবিলি পরিবেশে রয়েছে ঝাজাঙ্গি জুনিয়ার হাইস্কুল। বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণিতে ৫ জন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৫ জন, সপ্তম শ্রেণিতে ৬ জন ও অষ্টম শ্রেণিতে ৬ জন পড়ুয়া মিলিয়ে মোট ২২ জন পড়ুয়া রয়েছে। ২০০৮ সালে বিদ্যালয় স্থাপিত হবার পর শুধুমাত্র এই শিক্ষাবর্ষ নয়, বিগত শিক্ষাবর্ষগুলিতেও এই বিদ্যালয়ের পড়ুয়ার সংখ্যা ছিল তলানিতেই। ২২ জন পড়ুয়ার মধ্যে আবার প্রতিদিন সবাই বিদ্যালয়ে আসে না। অনেক দিন পড়ুয়াদের অনুপস্থিতির কারণে শিক্ষক–শিক্ষিকাদের কমন রুমেই বসে থাকতে হয়। পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়াতে প্রতিবছর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন, পড়ুয়াদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও সেভাবে কাজ হয়নি। স্কুলের শিক্ষিকা নিবেদিতা বড়ুয়া বলেন, ‘এই বছরও আমরা গ্রামে ঘুরে ঘুরে চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়াদের বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের অনুরোধ করছি যাতে তাঁরা তাঁদের সন্তানদের আমাদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করান।’ আরেক শিক্ষিকা সংগীতা সরকারের কথায়, ‘আমরাও চাই বিদ্যালয়ে পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়ুক, তার জন্য আমরা চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখি না।’
ঝাজাঙ্গি জুনিয়ার হাইস্কুল থেকে কিছুটা দুরেই রয়েছে রথেরহাট হাইস্কুল, চূড়াভাণ্ডার ভ্যাল ভ্যালা স্কুল, টেকাটুলি রামকান্ত উচ্চবিদ্যালয়। এলাকার বেশিরভাগ পড়ুয়া রথেরহাট উচ্চবিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হয়। বাকিরা বাকি দুই স্কুলে ভর্তি হয়। ঝাজাঙ্গি জুনিয়ার হাইস্কুল ক্যাম্পাস লাগোয়া চূড়াভাণ্ডার ঝাঝাঙ্গি অ্যাডিশনাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের থেকে হাতেগোনা কিছু পড়ুয়া চতুর্থ শ্রেণি পাশের পর এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়। ঝাজাঙ্গি এলাকার এক অভিভাবক শিবব্রত মণ্ডল বলেন, ‘কোনও পড়ুয়াই ঘনঘন বিদ্যালয় পরিবর্তন করতে চায় না। তাই সবাই সরাসরি চতুর্থ শ্রেণি থেকে উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে ভর্তি হচ্ছে। সেকারণেই জুনিয়ার হাইস্কুলে পড়ুয়ার দেখা মেলে না।’

