উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: গত ১২ বছর ধরে ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি, ছোলা আর বাদাম ভাজা বিক্রি করছেন বিক্রমকুমার সাউ (Bikram Sau)। প্রতিদিনের মতোই সাধারণ এক রবিবার ছিল তাঁর কাছে। কিন্তু বিকেল গড়াতেই বদলে গেল জীবনের মোড়। দেশের প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) স্বয়ং তাঁর দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে খেলেন ১০ টাকার ঝালমুড়ি। আর সেই এক ঠোঙা মুড়ির ঝাঁঝেই এখন খবরের শিরোনামে ঝাড়গ্রামের স্টেশনপাড়ার এই যুবক।
বিকেলবেলা আচমকাই বিক্রমের দোকানের সামনে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীদের আনাগোনা শুরু হয়। বিক্রম তখনও আঁচ করতে পারেননি কী হতে চলেছে। হঠাৎই কনভয় থামিয়ে তাঁর সামনে এসে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিক্রম জানান, মোদীজি আসার ১৫ মিনিট আগে থেকেই সিকিউরিটিরা ঘুরছিলেন। কিন্তু তিনি যে তাঁর দোকানেই আসবেন ভাবেননি। মুড়ি আছে কি না জিজ্ঞেস করতেই তিনি প্রথমে ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। এরপর ১০ টাকার মুড়ি খান মোদী। মুড়ির টাকা নিতে না চাইলেও উনি জোর করে টাকাটা দিয়ে যান।


বিক্রমের এই সাফল্যের গল্পের নেপথ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত সমাপতন। একসময় রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য দোকান ভেঙে যাওয়ায় কার্যত পথে বসেছিলেন তিনি। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে পুনর্বাসন পান বিক্রম সহ ৫৪ জন দোকানদার। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে পাওয়া সেই স্থায়ী দোকানেই আজ প্রধানমন্ত্রীকে আপ্যায়ন করলেন বিক্রম। অর্থাৎ, রাজ্যের দেওয়া দোকানে কেন্দ্রের প্রধানের এই ঝালমুড়ি খাওয়া যেন এক অনন্য মুহূর্ত তৈরি করল ঝাড়গ্রামে (Jhargram)।
মোদীর সেই ঝালমুড়ি খাওয়ার ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হতেই ‘সেলেব্রিটি’ হয়ে উঠেছেন বিক্রম। ঝাড়গ্রামের কলেজ মোড়ে তাঁর ছোট্ট দোকানটিতে এখন উপচে পড়া ভিড়।
- যারা প্রতিদিন আড্ডা মারতেন, তারাও আজ অবাক চোখে দেখছেন বিক্রমকে।
- বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে গমগম করছে দোকান।
- বিক্রমের বাবা-মায়ের কাছে অনবরত ফোন আসছে আত্মীয়-পরিজনদের। সবার একটাই জিজ্ঞাসা— ঠিক কী কথা হলো প্রধানমন্ত্রীর সাথে?
রাজনীতিতে কে কার প্রতিপক্ষ, সেই হিসেব চলতেই থাকবে। কিন্তু ঝাড়গ্রামের মেঠো রাস্তার ধারের বিক্রমের এই ঝালমুড়ির ঠোঙা প্রমাণ করে দিল— সামান্য ১০ টাকার মুড়ির স্বাদেও দেশনায়ক আর সাধারণ মানুষের দূরত্ব ঘুচে যেতে পারে নিমেষে।

