দীপঙ্কর মিত্র,রায়গঞ্জ: ‘দাগি’ শিক্ষকের তালিকায় নাম থাকা সত্বেও এবার ইন্টারভিউয়ের ডাক পেলেন রায়গঞ্জের এক শিক্ষক। রায়গঞ্জের দেবীনগরের বাসিন্দা এডুকেশনের ওই শিক্ষক নীতিশ রঞ্জন বর্মনের নাম অযোগ্যদের তালিকায় রয়েছে। তার স্ত্রীও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কিন্তু অযোগ্য হয়েও তিনি কীভাবে পরীক্ষায় বসলেন এবং ইন্টারভিউয়ের ডাক পেলেন, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। ছেলের নাম দাগিদের তালিকায় থাকা সত্বেও এবার যে তিনি ইন্টারভিউয়ের ডাক পেয়েছেন, তা স্বীকার করেছেন বাবা কেশব বর্মন।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দাগি তালিকায় আমার ছেলের নাম থাকায় বেতন বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এবার পরীক্ষা দেওয়ার পর সে ইন্টারভিউয়ের ডাক পেয়েছে।’ এই বিষয়ে তাঁর যুক্তি, ছেলে যেহেতু বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন, তাই আদালতের নির্দেশে পরীক্ষা দিয়েছে সে।
এমন অভিযোগ সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রায়গঞ্জ শহর জুড়ে। এমনকি ওই শিক্ষকের স্ত্রী সংবাদমাধ্যমের সামনে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। হেমতাবাদের বাসিন্দা ওই শিক্ষকের স্ত্রী বিপাশা বর্মন জানান, তার স্বামী ২০১৬ সালের প্যানেলভুক্ত এডুকেশনের শিক্ষক। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে তার চাকরি চলে যায় এবং বেতন বন্ধ হয়ে যায়। দাগি শিক্ষকের তালিকায় নাম আসে তাঁর স্বামীর। কিন্তু গতকাল তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যায়, একাদশ-দ্বাদশের ইন্টারভিউয়ে ডাক পেয়েছেন উনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, ‘কীভাবে পরীক্ষায় বসলেন বুঝতে পারছি না। এক্ষেত্রে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। শুধু একজনই না,মনে হয় ওনার মতো আরও অনেকে আছেন।’
জানা গিয়েছে, ওই মহিলার সঙ্গে শিক্ষকের বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে।বর্তমানে নিজের বাবার বাড়িতে থাকছেন তিনি। এদিকে বৌমার বিরুদ্ধে ওই শিক্ষকের বাবা কেশব বর্মন অভিযোগ করেন যে, ‘ছেলের যেহেতু চাকরি নেই, তাই সে ২০ লাখ টাকা এবং মাসে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেছে, মামলা চলছে। সে কারনে রাগের মাথায় ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, হুমকি দিচ্ছে আমাদেরকে।’ তাঁর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রতিবন্ধীদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। সেজন্য পরীক্ষা দিয়েছিল এবং ইন্টারভিউয়ের ডাক পেয়েছে। মেশিন ছাড়া ও কানে একটি কথাও শুনতে পারে না।’
উল্লেখ্য, কালিয়াগঞ্জ ব্লকের সাহেব ঘাটা এন এন উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন ওই শিক্ষক। ২০১৬ সালের প্যানেলভুক্ত ওই শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয় সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে। তারপর তার নাম আসে অযোগ্যদের তালিকায়। অযোগ্য শিক্ষকরা এসএসসি পরীক্ষায় বসতে পারবেন না বলে নির্দেশ দিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত। তারপরেও এই শিক্ষকের নাম ইন্টারভিউয়ের তালিকায় আসায় তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। যদিও এদিন সন্ধ্যায় অভিযুক্ত শিক্ষককে বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

