উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে ঘাসফুল শিবির কার্যত মুছে গিয়েছে। পনেরো বছরের জমানার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Election 2026) মসনদে বসেছে বিজেপি (BJP)। আর এই ‘পরিবর্তনের’ আবহে সবথেকে বড় চমক দিলেন শিল্পী কবীর সুমন (Kabir Suman)। গত দেড় দশক ধরে যাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম প্রধান সেনানি হিসেবে চিনে এসেছে বাংলা, সেই সুমনই এবার ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দাবি করলেন, “আমি তৃণমূলপন্থী নই!”
গত মার্চ মাসেও ধর্মতলার ধর্না মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পাশে বসে কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন শিল্পী। কিন্তু ফলপ্রকাশের পর তাঁর গলায় অন্য সুর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানান, “আমি তো তৃণমূলের সদস্য নই, আমি তৃণমূলপন্থীও নই। আমায় মমতা প্রায় হাতে-পায়ে ধরে দাঁড় করিয়েছিলেন।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, পাঁচ বছরের সাংসদ পদের মেয়াদ শেষ হওয়া মাত্রই তিনি পদত্যাগ করেছিলেন এবং আদতে তিনি কোনও দিনই কোনও রাজনৈতিক দলের শৃঙ্খলে বাঁধা ছিলেন না।


তৃণমূলের এই ভরাডুবির কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়েও বিস্ফোরক শিল্পী। সুমনের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সব কাজ ঠিক করতে পারেননি। বিশেষ করে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি বা চাকরির ক্ষেত্রটি যেভাবে কলঙ্কিত হয়েছে, মানুষ তা মেনে নিতে পারেনি। তবে সমালোচনা করলেও মমতার ‘সবুজসাথী’র মতো প্রকল্পের প্রশংসা করতে ভোলেননি তিনি। এমনকি আবেগপ্রবণ হয়ে মন্তব্য করেন, “এই সব ভালো কাজের জন্য হয়তো একদিন মমতার মন্দির হবে।”
তবে সবথেকে বেশি চর্চা হচ্ছে তাঁর আগামীর অবস্থান নিয়ে। নতুন সরকারকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি শিল্পী তাঁর সুপ্ত ‘বাম’ সত্ত্বাকে উসকে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সেরকম কোনও কমিউনিস্ট পার্টি এলে আমি এই বুড়ো বয়সেও তাঁদের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করব। তাঁদের জন্য গান বাঁধব।”
একদা পরিবর্তনের গান গাওয়া শিল্পী কি তবে আবারও লাল পতাকার দিকেই ঝুঁকছেন? নাকি ‘ডিগবাজি’র এই রাজনীতি কেবলই সময়ের দাবি? সোশ্যাল মিডিয়া থেকে রাজনৈতিক মহল— সর্বত্র এখন এই একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

