সমীর দাস, হাসিমারা: রবিবার পারমালঙ্গি (Par Malangi) বস্তিতে যেতেই দেখা গেল কয়েকটি বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে কিছু তরুণকে তালাবন্ধ রিসর্টের (Illegal Resort) সামনে। রিসর্ট তালাবন্ধ দেখে তাঁরা ফিরেও গেলেন। কয়েকজন ভিনরাজ্যের তরুণকে দেখা গেল টোটোতে চেপে সামনে গিয়ে রিসর্ট বন্ধ দেখে ফিরে গেলেন। সম্প্রতি পুলিশ ওই রিসর্ট দুটোতে তালা ঝুলিয়েছে। দুই রিসর্টের উচ্ছৃঙ্খলতায় বিলাসিতা ক্রমশ অসামাজিকতার রূপ নিয়ে নিয়েছিল। দুই রিসর্টের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের বক্তব্য, ওই রিসর্ট দুটোতে রাতদিন দেহব্যবসা (Sex Racket) চলছিল। পাশাপাশি মদ, গাঁজা থেকে শুরু করে মাদকের প্রকাশ্যে বিক্রি চলত। দুই রিসর্টের মালিকরা দিনে গড়ে প্রায় ৩-৪ লক্ষ টাকা বেআইনি ব্যবসা করে উপার্জন করতেন। রিসর্ট দুটি থেকে মদ্যপ অবস্থায় বের হয়ে গ্রামের রাস্তায় মদের বোতল ভেঙে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখত খদ্দেররা।
অবৈধ মধুচক্রের আসর বন্ধ আর মদ-মাদকের বেপরোয়া বিক্রি বন্ধ করতে কিছুদিন আগে গ্রামবাসীরা জেলা শাসককে অভিযোগপত্র দেন। প্রতিলিপি দেওয়া হয় জেলা পুলিশ সুপার ও অন্য প্রশাসনিক কর্তাদের। এরপরেই পুলিশ রিসর্ট দুটিতে অভিযান চালায়। দুই রিসর্ট থেকে শুক্রবার রাতে ৭ তরুণকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পাশাপাশি ও দুই রিসর্ট থেকে ১৬ বছরের এক নাবালিকা সহ ৪ তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে কিছুদিন আগে মদ্যপ কয়েকজন তরুণ আমাদের বাড়িতে এসে স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয়। ওই বাড়িতে মেয়ে ভাড়া পাওয়া যাবে নাকি জানতে চায়। দুটি রিসর্টের জন্য সম্পূর্ণ গ্রাম কালিমালিপ্ত হয়েছে।’ কয়েকজন বাসিন্দা বললেন, দুই রিসর্টের মালিকদের আমরা বারবার এসব অবৈধ কাজ বন্ধ করতে সতর্ক করেছিলাম। কিন্তু তাঁরা কথা শুনছিলেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দুটি রিসর্টে অসম, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৬-২৫ বছরের তরুণীদের আনা হত। অভাবী ঘরের তরুণীদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এখানে এনে দেহ ব্যবসায় নামানো হত। নানা ভাষাভাষীর মেয়েদের নিয়ে আসার দায়িত্ব ছিল জটেশ্বর ও নিউ হাসিমারার দুই তরুণের ওপর। ওই দুই রিসর্টের নাম এতটাই খ্যাতিলাভ করেছিল যে অসম, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, শিলিগুড়ি থেকে খদ্দেররা সেখানে নিয়মিত আসত। এলাকায় ওই দুটি রিসর্ট ছাড়াও রয়েছে আরও তিনটি রিসর্ট। ওই রিসর্ট মালিকদের অভিযোগ, ‘দুটি রিসর্টের কুকর্ম দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। যার জন্য ভালো গ্রাহকরা এখানে আসেন না। ফলে আমাদের ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু নেতার মদত ছিল ওই দুই রিসর্ট মালিকদের পেছনে। যার জন্য স্থানীয়দের অভিযোগকে পাত্তা দেওয়া হত না। পরবর্তীতে রিসর্ট দুটো খুললে আবার যদি এই ধরনের বেআইনি কাজ হয় তাহলে গ্রামবাসীরা এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন। রবিবার দুপুরে গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে এমনটাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হাসিমারা পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা গিয়েছে দুটি রিসর্টের মালিক যথাক্রমে গণেশ বর্মন, রমজান আলি, সোহেব আনসারি ও তফাজুল আনসারির নামে সুয়োমোটো মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে তারা এখনও পলাতক। তাদের খোঁজ জারি রেখছে পুলিশ।

